৩ দিনে ৬ ইসরাইলি সেনা নিহত, আহত ২০

ইসরাইলি সেনা নিহত
দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর সঙ্গে চলমান সংঘাতে গত তিন দিনে অন্তত তিন ইসরাইলি সেনা নিহত হয়েছেন বলে স্বীকার করেছে ইসরাইল। নিহতদের মধ্যে একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাও রয়েছেন। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, একই সময়ে আহত হয়েছেন আরও ২০ জনের বেশি সেনা।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে ইসরাইলি আর্মি রেডিওর বরাতে বলা হয়েছে, গত বৃহস্পতিবার থেকে দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর হামলায় ছয় ইসরাইলি সেনা নিহত হয়েছেন। এছাড়া ইসরাইলি দৈনিক হারেৎজের তথ্য অনুযায়ী, গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া বর্তমান দফার সংঘাতে এখন পর্যন্ত লেবাননে ৩৬ জন ইসরাইলি সেনা নিহত হয়েছেন।
ইসরাইলের ধারাবাহিক হামলা এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেইকে হত্যার প্রতিশোধের ঘোষণা দিয়ে গত ২ মার্চ ইসরাইলে হামলা শুরু করে হিজবুল্লাহ। এর জবাবে দক্ষিণ লেবাননে স্থল অভিযান শুরু করে ইসরাইল।
পরে ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ ঘোষণা দেন, লিটানি নদী পর্যন্ত দক্ষিণ লেবাননের একটি বড় অংশ দখলের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। যদিও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পরও সংঘাত থামেনি। ৮ এপ্রিল লেবাননের ১০০টিরও বেশি স্থানে একযোগে হামলা চালায় ইসরাইলি বাহিনী, যাতে নিহত হন ৩৫০ জনের বেশি মানুষ।
১৬ এপ্রিল ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও দক্ষিণ লেবাননে সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে। যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগে একে অপরকে দায়ী করছে ইসরাইল ও হিজবুল্লাহ।
সর্বশেষ ১৯ জুন মার্কিন ও ইরানি প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির মাধ্যমে লেবাননসহ বিভিন্ন ফ্রন্টে যুদ্ধ সমাপ্তির ঘোষণা দেওয়া হলেও বাস্তবে দক্ষিণ লেবাননে লড়াই এখনো থামেনি।
বিশ্লেষকদের মতে, ইসরাইল দক্ষিণ লেবাননে একটি তথাকথিত নিরাপত্তা অঞ্চল গড়ে তোলার কৌশল অনুসরণ করছে। গাজায় ব্যবহৃত একই নীতির অংশ হিসেবে সীমান্তবর্তী গ্রাম ধ্বংস, জনশূন্য এলাকা তৈরি এবং দীর্ঘমেয়াদি সামরিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। তাদের আশঙ্কা, লেবাননের দখলকৃত এলাকা ছেড়ে দিলে সিরিয়াতেও একই ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে। ফলে রাজনৈতিক ও আদর্শিক কারণে বর্তমান ইসরাইলি সরকার পিছু হটার কোনো লক্ষণ দেখাচ্ছে না।
প্রাইমটিভি/এনজি

ডেস্ক রিপোর্ট
© 2026 প্রাইম টেলিভিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।








