বিশ্বের নিরাপত্তা পরিস্থিতি দিন দিন আরও অনিশ্চিত ও জটিল হয়ে উঠছে। এমন পরিস্থিতিতে পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে উত্তর কোরিয়ার অবস্থান আরও শক্তিশালী করাই সবচেয়ে কার্যকর পথ বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির নেতা কিম জং উন।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ-এর বরাত দিয়ে এ তথ্য প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যম এক্সপ্রেস ট্রিবিউন

প্রতিবেদন অনুযায়ী, কিম জং উন বলেন, আধিপত্যবাদী শক্তিগুলোর ‘গ্যাংস্টারসুলভ’ লোভের কারণে বিশ্বজুড়ে অপ্রত্যাশিত ও উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে, যা বিভিন্ন অঞ্চলের সংঘাতকে আরও সহিংস করে তুলছে। তিনি ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেন।

কেসিএনএ জানায়, শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব মন্তব্য করেন কিম।

তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া যৌথভাবে তাদের পারমাণবিক প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ক্রমাগত বাড়াচ্ছে, যার লক্ষ্য উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করা।

কিম জং উন বলেন, আন্তর্জাতিক সামরিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে পারমাণবিক সক্ষমতা ধারাবাহিকভাবে সম্প্রসারণ এবং পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্র হিসেবে অবস্থান সুদৃঢ় করাই দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একমাত্র কার্যকর উপায়।

তবে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ভবিষ্যতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি কেসিএনএ। প্রতিবেদনে বলা হয়, কিম দেশটির প্রচলিত সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি ১০ হাজার টন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন একটি কৌশলগত নির্দেশিত ক্ষেপণাস্ত্রবাহী ক্রুজার নির্মাণকাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

এদিকে, দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে অবস্থিত ইউনিভার্সিটি অব নর্থ কোরিয়ান স্টাডিজের অধ্যাপক ইয়াং মু-জিন বলেন, কিম জং উনের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, উত্তর কোরিয়া এখনো পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে আলোচনায় আগ্রহী নয়। বরং দেশটি নিজেকে একটি স্বীকৃত পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চায় এবং সেই মর্যাদায় আন্তর্জাতিক আলোচনায় অংশ নিতে আগ্রহী।

প্রাইমটিভি/এমএইচ