কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে তেহরানের অনুমতি ছাড়া এই নৌপথ ব্যবহার করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। একই সঙ্গে প্রণালিতে ঘোষিত একটি নতুন বিকল্প রুটকে ‘অগ্রহণযোগ্য ও অত্যন্ত বিপজ্জনক’ বলে আখ্যায়িত করেছে তারা।

সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে ১০০ দিনেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধে হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ ছিল। সাময়িক যুদ্ধবিরতির পর স্থায়ী শান্তির আলোচনা চললেও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের প্রধান এই রুটের ভবিষ্যৎ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুপক্ষই এখন মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। ইরান জানিয়েছে, এই প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজের ওপর তারা সামুদ্রিক সেবা শুল্ক আরোপ করবে। বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এটি আন্তর্জাতিক নৌপথ হওয়ায় কোনো শুল্ক বা ফি আদায় করা যাবে না। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট সতর্ক করেছেন, ওয়াশিংটন এই ‘চাঁদাবাজি’ বা ফি আদায় সহ্য করবে না।

শিপ-ট্র্যাকিং প্রতিষ্ঠান মেরিন ট্রাফিকের তথ্যমতে, গত সপ্তাহের শেষে ৯৩টি জাহাজ এই পথ পার হলেও তা যুদ্ধপূর্ব পরিস্থিতির তুলনায় অনেক কম. বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের এই কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকলে তেলের বিশ্ববাজারে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে।

প্রাইমটিভি/বিএম