চলতি ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও পর্তুগালকে নিয়ে এক বিস্ফোরক ও চাঞ্চল্যকর ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন ঘানার বিতর্কিত ও স্বঘোষিত ওঝা নানা কোয়াকু বনসাম। ‘কালো জাদু’র জন্য আন্তর্জাতিক ফুটবল মহলে পরিচিতি পাওয়া এই তান্ত্রিকের দাবি, আধ্যাত্মিক জগতে পর্তুগাল ইতিমধ্যেই বিশ্বকাপ জিতে নিয়েছে এবং ট্রফিটি রোনালদোর হাতেই উঠছে।

ব্রিটিশ ও আফ্রিকান বেশ কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে কোয়াকু বনসাম বলেন, ‘এবারের বিশ্বকাপ রোনালদোর। আমি আধ্যাত্মিক জগতে পরিষ্কার দেখে নিয়েছি যে, সোনালী ট্রফিটা ওর হাতেই উঠছে। রোনালদোর দীর্ঘদিনের অধরা স্বপ্ন এবার পূরণ হতে চলেছে।’

ফুটবল বিশ্বে ঘানার এই ওঝার নাম প্রথম আলোচনায় আসে ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপের সময়। সেবার পর্তুগাল ও ঘানা একই গ্রুপে থাকায় বনসাম দাবি করেছিলেন, তিনি কালো জাদু বা ‘জুজু’র মাধ্যমে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে বোতলবন্দি ও পঙ্গু করে দেবেন। কাকতালীয়ভাবে, সেবার ক্যারিয়ারের মধ্যগগনে থাকা সত্ত্বেও হাঁটুর চোট ও অফ-ফর্মে ভুগেছিলেন সিআরসেভেন। পর্তুগালও গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেয় এবং রোনালদো মাত্র একটি গোল করতে সক্ষম হন। এরপর থেকেই এই ওঝার নাম আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বারবার উঠে আসে।

নিজের অলৌকিক ক্ষমতা সম্পর্কে বনসামের দাবি, ঘানার এক প্রত্যন্ত গ্রামের ‘কোফি অ্যান্ড কোফি’ আশ্রম থেকে তিনি এই বিশেষ শক্তি অর্জন করেছেন। এই শক্তির জোরেই নাকি তিনি প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের ক্ষতি বা মন্ত্রবলে আটকে রাখতে পারেন। এমনকি চলতি বিশ্বকাপেও ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেনকে তিনি নিজের মন্ত্রবলে ‘বোতলবন্দি’ করে রেখেছিলেন বলে দাবি করেছেন।

অবশ্য বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই তান্ত্রিকের এসব অলৌকিক বা জাদুকরী দাবির কোনো ভিত্তি বা প্রমাণ কখনোই পাওয়া যায়নি। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপ যেহেতু ৪১ বছর বয়সী ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ, তাই ফুটবল রোমান্টিক ও কোটি রোনালদোভক্তরা এই ভবিষ্যদ্বাণীকে বেশ ইতিবাচকভাবেই নিচ্ছেন। মাঠের লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত ওঝার এই কথা সত্যি হয় কি না, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

প্রাইমটিভি/বিএম