ইরানে দ্বিতীয় দফায় মার্কিন হামলা

ছবি- সংগৃহীত
টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ইরানের বিভিন্ন স্থানে রাতভর সামরিক হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একটি বাণিজ্যিক তেলবাহী জাহাজে হামলার ঘটনার পর এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কার্যক্রম পরিচালনাকারী ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে সর্বশেষ এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে। তাদের দাবি, বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের ধারাবাহিক আগ্রাসনের জবাব হিসেবেই হামলা চালানো হয়েছে।
সেন্টকমের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানে ইরানের সামরিক নজরদারি অবকাঠামো, যোগাযোগব্যবস্থা, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ড্রোন সংরক্ষণাগার এবং মাইন স্থাপনের সক্ষমতাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, দক্ষিণ ইরানের সিরিক বন্দরের কাছে তাহরুই গ্রামের আশপাশে একাধিক বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। শুক্রবারও একই এলাকায় মার্কিন হামলার ঘটনা ঘটে। এছাড়া কেশম দ্বীপেও হামলার খবর প্রকাশ করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম।
গত ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে একটি প্রাথমিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলেও পরবর্তী ধারাবাহিক হামলা-পাল্টা হামলায় সেই সমঝোতা কার্যত ভেঙে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি ওয়াশিংটনের প্রত্যাশা অনুযায়ী পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে পরিস্থিতি আরও বড় ধরনের সংঘাতে রূপ নিতে পারে। তিনি যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জন্য ইরানকে দায়ী করেন। তবে ইরানও একই অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে করে আসছে।
এর আগে শনিবার ভোরে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার সময় পানামার পতাকাবাহী তেলবাহী ট্যাঙ্কার কিকু অজ্ঞাত একটি প্রক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে কোনো নাবিক আহত হননি এবং জাহাজে থাকা অপরিশোধিত তেলেরও ক্ষতি হয়নি।
সেন্টকমের দাবি, প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বহনকারী ট্যাঙ্কারটি আত্মঘাতী ড্রোনের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট মেরিনট্রাফিক জানিয়েছে, জাহাজটি আল শাহীন তেলক্ষেত্র থেকে যাত্রা শুরু করেছিল এবং রোববার সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দরে পৌঁছানোর কথা ছিল।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান এই সংঘাত নতুন করে বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি বাজারে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
সূত্র: আল জাজিরা
প্রাইমটিভি/কেআর

ডেস্ক রিপোর্ট
© 2026 প্রাইম টেলিভিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।







