মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলে প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে একটি পরিত্যক্ত জেড (Jade) পাথরের খনিতে বর্জ্যের বিশাল স্তূপ ধসে পড়ে অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। সময় খনিটিতে মূল্যবান জেড পাথরের সন্ধানে কাজ করছিলেন বেশ কয়েকজন শ্রমিক। দুর্ঘটনায় এখনো অন্তত ১৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, তারা ধসে পড়া বর্জ্যের স্তূপের নিচে চাপা পড়েছেন।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) মিয়ানমারের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

রাষ্ট্রীয় সংবাদপত্রগ্লোবাল নিউ লাইট অব মিয়ানমার” জানায়, কয়েক দিন ধরে টানা ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে পরিত্যক্ত খনির ভেতরে জমে থাকা বর্জ্যের স্তূপ অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে সেটি ধসে পড়ে এই প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার সৃষ্টি হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় অন্তত পাঁচজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ১৫ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের উদ্ধারে ঘটনাস্থলে উদ্ধারকারী দল খনন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

এর আগে রোববার (২৮ জুন) কাচিন রাজ্যের হাকান্ত টাউনশিপে ফ্লাডলাইটের আলোতে প্রায় ২০ জন অনিবন্ধিত জেড সংগ্রহকারী পরিত্যক্ত খনিতে কাজ করছিলেন। সময় আকস্মিক ভূমিধসে তারা মাটিচাপা পড়েন বলে দেশটির সরকারি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

মিয়ানমারের খনিজ খাতে দীর্ঘদিন ধরেই নিরাপত্তা বিধি আইনি নিয়মকানুন উপেক্ষার অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের কাচিন রাজ্যে ধরনের অনিয়ম সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। বিশ্বের বৃহত্তম জেড পাথরের উৎস হিসেবে পরিচিত এই অঞ্চলের জেড প্রতিবেশী চীনসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে অলংকার, ধর্মীয় আচার অন্যান্য কাজে ব্যাপক চাহিদাসম্পন্ন।

২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অং সান সু চির নির্বাচিত সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দেশটিতে সশস্ত্র সংঘাত আরও তীব্র হয়। বর্তমানে মিয়ানমারের বেশ কয়েকটি মূল্যবান জেড খনি বিভিন্ন বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এসব গোষ্ঠী খনি থেকে আহরিত পাথর বিক্রির অর্থ নিজেদের সামরিক কর্মকাণ্ডে ব্যয় করে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দুর্বল অবকাঠামো, অনিয়ন্ত্রিত পাহাড় কাটা এবং বর্ষাকালে অতিবৃষ্টির কারণে মিয়ানমারের জেড খনিগুলোতে প্রায়ই প্রাণঘাতী ভূমিধসের ঘটনা ঘটে, যার ফলে প্রতি বছর বহু শ্রমিক প্রাণ হারান।

প্রাইমটিভি/এমআর