খামেনির জানাজায় ২ কোটি মানুষের সমাগমের প্রস্তুতি ইরানের

ছবি: সংগৃহীত
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও দাফন উপলক্ষে নজিরবিহীন প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। ইরানি কর্মকর্তাদের ধারণা, এ অনুষ্ঠানে তেহরানে প্রায় ২ কোটি, দেশজুড়ে প্রায় ৩ কোটি ৫০ লাখ মানুষ অংশ নিতে পারেন। এছাড়া বিশ্বের ৯০টির বেশি দেশের প্রতিনিধি এবং প্রায় ১৪ হাজার দেশি-বিদেশি সাংবাদিক উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
এই পূর্বাভাস বাস্তবায়িত হলে ১৯৮৯ সালে ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির জানাজায় অংশ নেওয়া আনুমানিক ১ কোটি ২ লাখ মানুষের রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে। সে কারণে খামেনির জানাজাকে ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ জনসমাগমে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আগামী ৯ জুলাই খামেনির দাফন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ উপলক্ষে রাজধানী তেহরানসহ দেশজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। বিপুল জনসমাগমের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।
ইরানের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জনসমাগমগুলোর একটি ছিল আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির ১৯৮৯ সালের জানাজা। ওই বছরের ৬ জুন অনুষ্ঠিত জানাজায় লাখো মানুষের ঢল নামে। অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। শোকাহত মানুষের চাপে দাফনের শোভাযাত্রা ব্যাহত হয় এবং বিশৃঙ্খলায় বহু মানুষ আহত হন। সে সময় খোমেনির ছেলে আহমদ খোমেনিও আহতদের মধ্যে ছিলেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে অন্তত ৮ জন নিহত এবং প্রায় ১১ হাজার মানুষ আহত হওয়ার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে নিরাপত্তা বাহিনী আকাশে গুলি ছোড়ে এবং শেষ পর্যন্ত ওই দিনের দাফন স্থগিত করা হয়। পরদিন সকালে পুনরায় জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়।
গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্য অনুযায়ী, খোমেনির জানাজা জনসংখ্যার অনুপাতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় জানাজাগুলোর একটি হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। ধারণা করা হয়, প্রায় ১ কোটি ২ লাখ মানুষ এতে অংশ নিয়েছিলেন, যা সে সময় ইরানের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-ষষ্ঠাংশ।
আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর ১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ইরানের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি টানা ৩৬ বছর ৬ মাস দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতৃত্বে ছিলেন। ইরানি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি এক হামলায় তিনি নিহত হন। তার দাফনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে শোকের পাশাপাশি ব্যাপক জনসমাগমের প্রস্তুতি চলছে।
প্রাইমটিভি/এমআর

ডেস্ক রিপোর্ট
© 2026 প্রাইম টেলিভিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।








