আধুনিক যান্ত্রিক ও কর্মব্যস্ত জীবনে ক্যারিয়ার, পরিবার আর নানা সামাজিক দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে দম্পতিদের নিজেদের জন্য সময় বের করা বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে। সারাদিনের ব্যস্ততা শেষে অনেক স্বামী-স্ত্রীই অনুভব করেন যে, তারা একই ছাদের নিচে থাকলেও একে অপরকে পর্যাপ্ত সময় দিতে পারছেন না। এর ফলে ধীরে ধীরে সম্পর্কে একঘেয়েমি, দূরত্ব কিংবা মানসিক অবসাদ তৈরি হয়। তবে একটি সুখী ও দীর্ঘস্থায়ী দাম্পত্য জীবনের জন্য প্রতিদিন স্বামী-স্ত্রীর ঠিক কতটা সময় একসঙ্গে কাটানো উচিত, তা নিয়ে বিভিন্ন গবেষণা ও সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন।

21-825x510

বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্পর্কের গভীরতা ধরে রাখতে স্বামী-স্ত্রীর প্রতিদিন অন্তত ২০ থেকে ৩০ মিনিট একে অপরকে ‘কোয়ালিটি টাইম’ বা গুণগত সময় দেওয়া উচিত। এই সময়টুকু হতে হবে সব ধরনের বাহ্যিক কোলাহলমুক্ত। অর্থাৎ, ল্যাপটপ, টেলিভিশন কিংবা সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের মতো ডিজিটাল ব্যস্ততা দূরে সরিয়ে রেখে স্রেফ নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করতে হবে। এই বিশেষ সময়ে সারাদিনের কাজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়া, একে অপরের খোঁজ নেওয়া কিংবা হালকা গল্পগুজব করা যেতে পারে, যা মানসিক দূরত্ব কমাতে জাদুর মতো কাজ করে।

15-Ways-to-Refresh-A-Long-Term-Relationship-768x432

গবেষণায় দেখা গেছে, একসঙ্গে দীর্ঘ সময় কাটানোর চেয়ে কম সময়েও কতটা আন্তরিকভাবে একে অপরের পাশে থাকা গেল, তা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সপ্তাহের কর্মদিবসগুলোতে অল্প সময় পেলেও, ছুটির দিনে দুজনে মিলে একটু বেশি সময় কাটানো উচিত। মাসে অন্তত একবার নিজেদের পছন্দের কোনো জায়গায় ডেটে যাওয়া বা ঘুরতে যাওয়া সম্পর্কের রোমান্টিকতা সতেজ রাখে।

তবে এর পাশাপাশি সম্পর্কের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ‘পার্সোনাল স্পেস’ বা ব্যক্তিগত স্বাধীনতা। সারাক্ষণ একসাথে থাকা মানেই ভালো থাকা নয়, বরং একে অপরের ব্যক্তিগত ভালোলাগা ও শখকে শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুটা সময় নিজের মতো কাটাতে দেওয়াও সুস্থ দাম্পত্যের লক্ষণ। মূলত, পারস্পরিক বোঝাপড়া, শ্রদ্ধা এবং প্রতিদিনের ছোট্ট একটু একান্ত মুহূর্তই পারে একটি সম্পর্ককে আজীবন সুন্দর ও প্রাণবন্ত রাখতে।