নিখোঁজের ১২ ঘণ্টা পর কুমিল্লায় কাস্টমস কর্মকর্তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার

কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী । ছবি : সংগৃহীত
চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় ফেরার পথে নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ১২ ঘণ্টা পর কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগীর (৩৫) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার সকাল ৮টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকায় আইরিশ হোটেলের পাশের ফুটপাত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নামতি হাইওয়ে থানা পুলিশ।
নিহত বুলেট বৈরাগীর বাড়ি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায়। তিনি কুমিল্লা কাস্টমসের বিবির বাজার স্থলবন্দরে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। চাকরির সুবাদে কুমিল্লা নগরীর রাজাগঞ্জ পানপট্টি এলাকার ভুইয়া হেরিটেজ নামের একটি ভাড়া বাসায় পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন। তার ৯ মাস বয়সী একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, বুলেট বৈরাগী ৪১তম বিসিএস নন-ক্যাডার হিসেবে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা পদে নিয়োজিত ছিলেন। গত ১১ এপ্রিল বিভাগীয় সরকারি প্রশিক্ষণে অংশ নিতে তিনি চট্টগ্রামে যান। শুক্রবার রাত ১১টার দিকে প্রশিক্ষণ শেষে চট্টগ্রামের অলঙ্কার মোড় থেকে বাসে করে কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা দেন। যাত্রাপথে পরিবারের সঙ্গে তার একাধিকবার মোবাইলে কথা হয়।
নিহতের মা নীলিমা বৈরাগী জানান, সর্বশেষ রাত ২টা ২৫ মিনিটের দিকে ছেলে ফোন করে জানায় সে কুমিল্লা নগরীর টমছমব্রিজ চৌরাস্তার মোড়ে পৌঁছেছে। এরপর রাত আড়াইটার পর তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা কয়েকবার কথা বলেন এবং পরে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। সারারাত বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে শনিবার সকালে তার বাবা সুশীল বৈরাগী কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
ময়নামতি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল মোমিন জানান, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল পেয়ে পুলিশ আইরিশ হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের পাশের ফুটপাত থেকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে। পরে দুপুর ১টার দিকে পরিবারের সদস্যরা থানায় এসে মরদেহটি বুলেট বৈরাগীর বলে শনাক্ত করেন। তার মাথার পেছনে আঘাতের চিহ্ন এবং মুখ রক্তাক্ত ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি দুর্বৃত্তদের হামলায় নিহত হয়েছেন।
সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল মোস্তফা জানান, গভীর রাতে টমছমব্রিজ এলাকা থেকে কীভাবে তাকে মহাসড়কে নেওয়া হয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত কার্যক্রম চলছে। ধারণা করা হচ্ছে, দুর্বৃত্তরা তাকে হত্যা করে মরদেহ মহাসড়কের পাশে ফেলে রেখে যায়।
তিনি আরও জানান, হাইওয়ে পুলিশের কাছ থেকে মরদেহ বুঝে নেওয়া হয়েছে। সময় স্বল্পতার কারণে শনিবার ময়নাতদন্ত করা সম্ভব হয়নি। রোববার সকালে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হবে।
এদিকে পরিবারের একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে বুলেট বৈরাগীর পরিবারে। তার বাসায় স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। খবর পেয়ে সহকর্মী ও প্রতিবেশীরাও সেখানে ছুটে আসেন।
নিহতের বাবা সুশীল বৈরাগী বিলাপ করে বলেন, “ঘাতকরা কেন আমার বুকের ধন কেড়ে নিল? টাকা-পয়সা চাইলে দিতাম। কেন আমার সন্তানকে হত্যা করা হলো?” তিনি দ্রুত ঘাতকদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, রোববার ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জে নিয়ে যাওয়া হবে।

ডেস্ক রিপোর্ট
© 2026 প্রাইম টেলিভিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।







