বাঙালি ললনার প্রেমের টানে সাতসমুদ্র তেরো নদী পার হয়ে এসেছিলেন এ দেশে। ঘর বেঁধেছিলেন রঙিন স্বপ্নে। কিন্তু বিয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই সেই স্বপ্ন কাচের মতো ভেঙে চুরমার হয়ে গেল। প্রেমের নিখাদ আবেগকে পুঁজি করে চীনা স্বামীর সর্বস্ব লুটে নিয়ে চম্পট দিয়েছেন বাংলাদেশি স্ত্রী। বিয়ের মাত্র দুই মাসের মাথায় এমন এক চাঞ্চল্যকর প্রতারণার শিকার হয়ে এখন দিশেহারা এক চীনা নাগরিক।

ভালোবেসে ঘর বাঁধা এই বাংলাদেশি স্ত্রীর বিরুদ্ধে এবার প্রতারণার মাধ্যমে কয়েক লাখ টাকা মূল্যের মার্কিন ডলার ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত নথিপত্র আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী বিদেশি নাগরিক আন হংওয়েই। অভিযুক্ত স্ত্রীর নাম মোর্শেদা খাতুন। তিনি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার ধর্মপুর এলাকার বাসিন্দা।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় কর্মরত থাকাকালীন চীনা নাগরিক আন হংওয়েই-এর সঙ্গে মোর্শেদার পরিচয় হয়। সময়ের ব্যবধানে সেই পরিচয় রূপ নেয় গভীর প্রণয়ে। গত ২০ এপ্রিল পারিবারিকভাবে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের পর চিনা জামাইকে নিয়ে মোর্শেদা ফুলবাড়ীতে গ্রামের বাড়িতে এলে দূর-দূরান্ত থেকে উৎসুক মানুষ তাদের একনজর দেখতে ভিড় জমায়।

কিন্তু সুখের সেই দিন বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। আন হংওয়েই-এর অভিযোগ, বিয়ের পর পরই তার স্ত্রী মোর্শেদা খাতুন কৌশলে মার্কিন ডলার এবং তার অতি প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত কাগজপত্র হাতিয়ে নিয়ে নিখোঁজ হন।

এদিকে স্ত্রীর এমন প্রতারণায় নিরুপায় হয়ে সোমবার (২২ জুন) রাতে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী থানায় হাজির হন ওই চীনা নাগরিক। তবে ঘটনার মূল কেন্দ্রস্থল ঢাকার সাভার এলাকা হওয়ায় আইনি প্রক্রিয়ার স্বার্থে তাকে সাভার থানায় যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছে স্থানীয় পুলিশ।

ফুলবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান নাঈম ইত্তেফাককে জানান, "চীনা নাগরিক থানায় এসেছিলেন। তবে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, অর্থ ও নথিপত্র আত্মসাতের ঘটনাটি মূলত ঢাকার সাভারে ঘটেছে। অপরাধের ঘটনাস্থল সাভার থানা এলাকায় হওয়ায় আমরা তাকে সাভার মডেল থানায় গিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার এবং অভিযোগ দায়ের করার পরামর্শ দিয়েছি।"

প্রাইমটিভি/এমএইচ