মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) কর্মকর্তাদের আধুনিক ৯ এমএম পিস্তল সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে আগামী দুই–এক দিনের মধ্যেই প্রয়োজনীয় আইন সংশোধন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

শুক্রবার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব তথ্য জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাঠপর্যায়ে মাদকবিরোধী অভিযান আরও কার্যকর করতে ডিএনসি কর্মকর্তাদের আধুনিক অস্ত্র ও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, যাতে তারা মাদক চক্রের বিরুদ্ধে আরও শক্ত অবস্থানে যেতে পারেন।

তিনি আরও জানান, অধিদপ্তরের সক্ষমতা বাড়াতে প্রতিটি জেলায় আধুনিক মাদক পরীক্ষাগার, নিজস্ব হাজতখানা এবং প্রশিক্ষিত ডগ স্কোয়াড গঠনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে এসব বিষয়ে প্রস্তাব অনুমোদন বা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

অনুষ্ঠানে মাদকসংক্রান্ত মামলার দীর্ঘসূত্রতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বিচারকের স্বল্পতার কারণে শুধু ঢাকাতেই প্রায় ৮০ হাজার মাদক মামলা নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশেষ আদালত গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

এছাড়া ঔপনিবেশিক আমলের পুরোনো আইন সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, এখনো ১৮৬৭ সালের আইন অনুযায়ী কিছু অপরাধের বিচার করা হচ্ছে, যা আধুনিকায়ন প্রয়োজন। একই সঙ্গে সাইবার অপরাধ দমনে বিদ্যমান আইন আরও কঠোর ও কার্যকর করার কাজ চলছে।

সরকার মাদক নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিচারিক প্রক্রিয়া দ্রুততর করার মাধ্যমে মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান অব্যাহত রাখবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

প্রাইমটিভি/কেআর