প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও চীনের বহুমাত্রিক সম্পর্ক দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারিত্বে রূপ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও মুখপাত্র মাহদী আমিন।

শুক্রবার স্থানীয় সময় দুপুরে বেইজিংয়ের দিয়াওইউতাই হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক দ্বিপাক্ষিক কাঠামো ছাড়িয়ে বহুমাত্রিক ও কৌশলগত পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে।

মাহদী আমিন জানান, সফরকালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং এবং ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ঝাও লেজির সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী। আলোচনাগুলোতে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো, জ্বালানি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং প্রযুক্তি খাতের সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে মোট ১৭টি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে, যার মধ্যে ১৩টি সরকারি পর্যায়ের, ৩টি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত এবং ১টি রাজনৈতিক দলীয় পর্যায়ের। পাশাপাশি একটি ১৬ দফা যৌথ ইশতেহার প্রণয়ন করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন আরও বলেন, দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমানো, বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং উৎপাদন ও রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। চীন বাংলাদেশে শিল্প স্থানান্তর ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রেও আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

তিনি জানান, অবকাঠামো উন্নয়ন, বিশেষ করে সড়ক, রেল, সেতু ও মাল্টিমোডাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থায় চীনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি চট্টগ্রামের আনোয়ারা ইকোনমিক জোন, মংলা ইকোনমিক জোন, গ্রীন এনার্জি ও টেকসই উন্নয়ন প্রকল্পেও সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পানি ব্যবস্থাপনা ও অবকাঠামো উন্নয়নে চীন প্রযুক্তিগত ও পরিকল্পনা সহায়তা দিতে আগ্রহী।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে চীন মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনায় সহায়তা করবে বলেও জানান তিনি।

এছাড়া প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ‘টু প্লাস টু’ (পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পর্যায়ের) সংলাপ কাঠামো গঠনের বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে বলে জানান মাহদী আমিন।

তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও জনসম্পর্ক বৃদ্ধির মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ককে আরও গভীর করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

সবশেষে তিনি বলেন, এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক একটি “নতুন ব্লুপ্রিন্ট” পেয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে কৌশলগত ও টেকসই অংশীদারিত্বে রূপ নেবে।

প্রাইমটিভি/কেআর