ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত যুবলীগের এক নেতার গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে পূর্ববিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

শনিবার (২৭ জুন) ভোরে উপজেলার ঘোপাল ইউনিয়নের নিজকুঞ্জরা সমিতি বাজার এলাকার একটি পুকুর থেকে যোবায়ের হোসেনের (৩৫) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি ওই এলাকার নুর আহাম্মদ মাস্টার বাড়ির আবু তাহেরের ছেলে এবং ঘোপাল ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। সম্প্রতি তিনি কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান।

পুলিশ জানিয়েছে, যোবায়ের হোসেনের বিরুদ্ধে হত্যা, মারামারি, ছিনতাই, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডসহ বিভিন্ন অভিযোগে ৩০টির বেশি মামলা রয়েছে। তিনি পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ছিলেন। ২০২৪ সালের আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তাঁর বাড়িতে অগ্নিসংযোগ এবং খামারের গরু লুটের ঘটনাও ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সন্ধ্যায় পূর্ববিরোধের জেরে স্থানীয় দুই যুবকের সঙ্গে যোবায়েরের কথা-কাটাকাটি হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে এলাকাবাসী বিষয়টি মীমাংসা করে দেন। তবে রাতে ওই দুই যুবক আবারও যোবায়েরকে দোকানে যাওয়ার কথা বলে ডেকে নিয়ে যান। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। শনিবার ভোরে স্থানীয়রা একটি পুকুরে তাঁর মরদেহ ভাসতে দেখে পুলিশকে খবর দেন।

ছাগলনাইয়া থানার ঘোপাল তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ পরিদর্শক রতন দেবনাথ জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে দুজন যুবক হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।

ফেনীর পুলিশ সুপার (এসপি) প্রত্যুষ কুমার মজুমদার বলেন, নিহত যোবায়েরের বিরুদ্ধে ৩০টিরও বেশি মামলা রয়েছে এবং তিনি পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ছিলেন। তাঁর বাবা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

প্রাইমটিভি/এমআর