তরুণকে আটকে মুক্তিপণ দাবি, ঢাবি শিক্ষার্থীসহ গ্রেপ্তার ৩

ছবি- সংগৃহীত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চত্বরে এক তরুণকে আটকে রেখে তার পরিবারের কাছে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় শাহবাগ থানায় অপহরণের মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই ঘটনায় আরও দুজন পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শনিবার (২৭ জুন) ভুক্তভোগী সাজিদ হাসানের শ্বশুর মাসুম চৌধুরী বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার রাতে রাজধানীর হাজারীবাগ এলাকা থেকে সাজিদ হাসান ও তার এক বন্ধুকে ধরে এনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চত্বরে আটকে রাখা হয়। পরে ইয়াবা উদ্ধারের অভিযোগ তুলে সাজিদের পরিবারের কাছে ফোন করে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
মুক্তিপণের দাবির ফোন পাওয়ার পর ভুক্তভোগীর শ্বশুর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করলে শাহবাগ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে অভিযান চালায়। অভিযানে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে এ সময় আরও দুজন পালিয়ে যান।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মোবাইল ফোনে ধারণ করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, আটক তরুণের পকেট থেকে একজন ব্যক্তি ইয়াবাসদৃশ বস্তু বের করছেন। তদন্তকারীদের ধারণা, ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই পরিবারের কাছে অর্থ দাবি করা হয়েছিল।
গ্রেপ্তার হওয়া তিনজনের মধ্যে একজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) শ্রেণির শিক্ষার্থী বলে জানিয়েছে পুলিশ। এছাড়া পলাতক আরেকজন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেলেও তার পরিচয় এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে যাচাই করা হচ্ছে।
এদিকে, ভুক্তভোগী সাজিদ হাসানের কাছ থেকে মাদক উদ্ধার হয়েছে দাবি করে তাকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। তবে মুক্তিপণ দাবির অভিযোগের তদন্ত পৃথকভাবে চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শাহবাগ থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, ঘটনাটি অপহরণের সংজ্ঞার মধ্যে পড়ায় এ বিষয়ে মামলা নেওয়া হয়েছে। পলাতক দুজনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তাদের আটক করা গেলে পুরো ঘটনার নেপথ্য সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক মো. ইসরাফিল রতন বলেন, ঘটনাটি পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নজরে এসেছে। তিনি জানান, ৯৯৯ নম্বরে ফোন পাওয়ার পর পুলিশ অভিযানে যায় এবং তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। আইনগত প্রক্রিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো হস্তক্ষেপ করবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
প্রাইমটিভি/কেআর

ডেস্ক রিপোর্ট
© 2026 প্রাইম টেলিভিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।







