ঢাকার সাভার আশুলিয়ায় পৃথক তিনটি ঘটনায় দুই শিশু এক যুবতী পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এসব ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ দুইজনকে আটক করেছে। এছাড়া আশঙ্কাজনক রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া এক যুবতীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

রোববার (২৮ জুন) দিবাগত রাতে এ ঘটনাগুলো ঘটেছে

পুলিশ স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার দিবাগত রাতে আশুলিয়ার নইহাটি এলাকায় ১৩ বছরের এক শিশু বাড়ির পাশে টিউবওয়েলে পানি আনতে যায়। সময় পরশুরাম মনিদাস তার স্ত্রী তপসা রানীর সহযোগিতায় ওই শিশুকে হত্যার হুমকি দিয়ে ঘরে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়। পরবর্তীতে স্থানীয়দের দেওয়া খবরের ভিত্তিতে আশুলিয়া থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত পরশুরামকে আটক করে। ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর পরিবার বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় নারী শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকায় ১০ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে তার সৎ বাবা জহুরুল ইসলামকে (২৭) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত জহুরুল পেশায় একজন অটোরিকশাচালক। পুলিশ জানায়, রোববার দিবাগত রাত পৌনে ১২টার দিকে ঘরে একা পেয়ে ওই শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায় জহুরুল। সময় শিশুটির চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে অভিযুক্তকে আটকে রাখে এবং পুলিশে খবর দেয়।

পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর মা বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম দুটি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নের ধরেন্ডা কমলাপুরের ঢাল এলাকা থেকে রক্তাক্ত বিবস্ত্র অবস্থায় ২৪ বছর বয়সী এক যুবতীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ স্থানীয়রা। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ওই যুবতীর ওপর তীব্র পাশবিক নির্যাতন (ধর্ষণ) চালানো হয়েছে। ভুক্তভোগী যুবতী জামালপুর জেলার মেলান্দহ থানার পঞ্চমহলা গ্রামের বাসিন্দা।

স্থানীয়রা জানান, রোববার রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে ধরেন্ডা কমলাপুরের ঢালে ওই যুবতীকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে তারা চিৎকার শোনেন। অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্তরা তাকে সেখানে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কমলাপুর বাজারে নিয়ে আসে। খবর পেয়ে সাভার থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করে।

ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান চলছে বলে জানা গেছে।

 প্রাইমটিভি/এমআর