ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় ঘুমন্ত স্বামীর পুরুষাঙ্গ ব্লেড দিয়ে কেটে দেওয়ার অভিযোগে দ্বিতীয় স্ত্রীকে আটক করেছে পুলিশ।

সোমবার (২৯ জুন) ভোরে পৌরসভার হোগলাডাঙ্গী সদরদী এলাকায় ঘটনা ঘটে।

আহত হানিফ শেখ (৩০) পেশায় একজন কসমেটিক ব্যবসায়ী। তিনি ভাঙ্গা উপজেলার মানিকদী ইউনিয়নের ব্রাহ্মণকান্দা গ্রামের রফিক শেখের ছেলে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

আটক হওয়া সুমাইয়া আক্তার সুমি নগরকান্দা উপজেলার ফুলসুতি ইউনিয়নের ফুলসুতি গ্রামের নুরুল ইসলাম সরদারের মেয়ে। স্বামী-স্ত্রী ভাঙ্গা পৌরসভার হোগলাডাঙ্গী সদরদীর একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, রোববার রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক বিষয় নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয়। অভিযোগ রয়েছে, সোমবার ভোরে স্বামী ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় সুমি ধারালো ব্লেড দিয়ে তার পুরুষাঙ্গ কেটে দেন। হানিফের চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।

ঘটনার পর স্থানীয়রা অভিযুক্ত নারীকে আটক রেখে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯- ফোন করেন। পরে ভাঙ্গা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে হেফাজতে নেয়।

স্থানীয় ব্যবসায়ী জাহিদ জানান, হানিফ কসমেটিক ব্যবসার সুবাদে একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্ক রাখতেন বলে এলাকায় আলোচনা ছিল। বিষয়কে কেন্দ্র করে তার একাধিক স্ত্রীর সঙ্গে প্রায়ই পারিবারিক বিরোধ দেখা দিত।

অভিযুক্ত সুমাইয়া আক্তার সুমি দাবি করেন, তার স্বামী তিনটি বিয়ে করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, স্বামীর নির্যাতন অন্য নারীদের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে প্রতিবাদ করলে তাকে প্রায়ই মশার কয়েলের আগুন দিয়ে ছ্যাঁকা দেওয়া হতো। এসব নির্যাতন সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে যাওয়ায় তিনি ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন।

ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, ৯৯৯- খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত নারীকে আটক করেছে। তবে ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


প্রাইমটিভি/এমআর