পটুয়াখালীতে শ্রমিক দল নেতাকে কুপিয়ে-পিটিয়ে হত্যা

ছবিঃ সংগৃহীত
পটুয়াখালীর সদর উপজেলায় মো. রিপন কাজী (৩৫) নামে এক শ্রমিক দল নেতাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিহতের চাচাতো ভাইসহ ৮ থেকে ১০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন স্বজনরা। হত্যার কারণ হিসেবে পারিবারিক বিরোধের কথা জানিয়েছেন তারা।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার মরিচবুনিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ বাজারঘোনা এলাকার ফারুক ডাক্তারের বাড়ির সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর রাত ২টার দিকে রিপনের মৃত্যু হয়।
নিহত রিপন কাজী বরগুনার আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের কালিবাড়ি গ্রামের মিজানুর রহমানের ছেলে। তিনি গুলিশাখালী ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সভাপতি ছিলেন।
নিহতের সঙ্গে থাকা তার এক চাচাতো ভাই জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তারা মোটরসাইকেলে করে গগন খাঁ বাজারে যান। সেখান থেকে ফেরার পথে দক্ষিণ বাজারঘোনা এলাকায় পৌঁছালে রাসেল কাজী, রিফাত কাজী, সোহাগ কাজী ও রাহাত কাজীর নেতৃত্বে ৮ থেকে ১০ জন তাদের গতিরোধ করে। পরে ধারালো অস্ত্র ও লাঠি নিয়ে হামলা চালানো হয়।
তিনি বলেন, প্রাণ বাঁচাতে পাশের একটি খালে ঝাঁপ দেন। পরে উঠে এসে রিপনকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে পটুয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহতের মা আমেনা বেগম অভিযোগ করেন, পারিবারিক বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে তার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
আমতলী উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি তারিকুল ইসলাম সোহাগ এ হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে আমতলী থানার ওসি মো. ইয়াকুব হোসাইন জানান, নিহতের বাড়ি আমতলীতে হওয়ায় তদন্তে সহায়তা করতে আমতলী থানা পুলিশের একটি দল পটুয়াখালী পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে।
প্রাইমটিভি/এমএইচ

ডেস্ক রিপোর্ট
© 2026 প্রাইম টেলিভিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।







