সীমান্তে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধে যৌথ অভিযানের সিদ্ধান্ত

ছবি: সংগৃহীত
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংডু টাউনশিপে কয়েক দিন ধরে সরকারি জান্তা বাহিনী ও আরাকান আর্মির (এএ) মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ চলছে। জান্তা বাহিনীর বিমান হামলার পাল্টা জবাব দিচ্ছে আরাকান আর্মিও। এতে হতাহত হওয়ার পাশাপাশি বাস্তুচ্যুত হচ্ছে বহু বেসামরিক মানুষ।
এর প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশ সীমান্তেও। রাখাইনের বিপরীতে থাকা টেকনাফ, উখিয়া ও নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তবর্তী কয়েক হাজার মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। সীমান্তের ওপার থেকে বিস্ফোরণের বিকট শব্দ শোনা যাচ্ছে, কেঁপে উঠছে এপারের ঘরবাড়িও। একই সঙ্গে নতুন করে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে শনিবার (৪ জুলাই) টেকনাফ উপজেলা পরিষদ সম্মেলনকক্ষে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১১টায় শুরু হওয়া সভা চলে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী। সভা পরিচালনা করেন টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী।
সভায় রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে নাফ নদী ও স্থল সীমান্তে বিজিবি এবং কোস্টগার্ডের টহল ও নজরদারি আরও জোরদারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি অপহরণ, মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান, সমুদ্রপথে মানব পাচার প্রতিরোধ, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, পাহাড়ে সন্ত্রাসীদের আস্তানা উচ্ছেদ, রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার, ক্যাম্পের বাইরে অবস্থানকারী রোহিঙ্গাদের শনাক্তকরণ এবং অনলাইন জুয়া বন্ধে যৌথ বাহিনীর অভিযান চালানোর সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন রামু বিজিবি সেক্টরের কমান্ডার কর্নেল মো. মহিউদ্দিন আহমেদ, জেলা পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান, টেকনাফ ২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হানিফুর রহমান ভূঁইয়া, র্যাব-১৫ কক্সবাজারের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নিয়ানুল হালিম খান, উখিয়া ৬৪ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলাম, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কক্সবাজারের উপপরিচালক সোমেল মণ্ডল এবং উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
সভায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা রাখাইনের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের নিরাপত্তা এবং সম্ভাব্য রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
টেকনাফ সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান বলেন, মিয়ানমারের সংঘাতের কারণে সীমান্ত এলাকার মানুষ আতঙ্কে রয়েছেন। বিজিবি ও কোস্টগার্ড সতর্ক থাকলেও ওপার থেকে ছোড়া গুলিতে প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে টেকনাফে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় এবং সমুদ্রপথে মানব পাচারের ঘটনাও বেড়েছে।
এদিকে সীমান্ত পরিস্থিতি সম্পর্কে রামু বিজিবি সেক্টরের কমান্ডার কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ জানান, মিয়ানমারের অভ্যন্তরে বিমান হামলা ও বিস্ফোরণের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত নতুন করে কোনো রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেনি। সম্ভাব্য অনুপ্রবেশ ঠেকাতে উখিয়া-টেকনাফ সীমান্তে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে।
প্রাইমটিভি/এমআর

ডেস্ক রিপোর্ট
© 2026 প্রাইম টেলিভিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।






