‘ত্যাগ চাই, মর্সিয়া-ক্রন্দন চাহি না...!’দ্রোহ ও ত্যাগের এই মহান বার্তা নিয়ে আজ শুক্রবার (২৬ জুন) মুসলিম উম্মাহর সামনে ফিরে এলো ১০ই মহরম, পবিত্র আশুরা.ইসলামের ইতিহাসে দিনটি একদিকে অসামান্য বরকত ও ইবাদতের মহিমায় উজ্জ্বল, অন্যদিকে কারবালার প্রান্তরে মহানবী (স.)এর দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসাইন (রা.) ও তার পরিবারের সদস্যদের নির্মম শাহাদতের সকরুণ স্মৃতিতে ভাস্বর। সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার এই ঐতিহাসিক দিনে রাজধানীসহ দেশজুড়ে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিনটি পালিত হচ্ছে।

ভুল ধারণা ও কুসংস্কার বর্জন: মহরম ও আশুরাকে কেন্দ্র করে সমাজে প্রচলিত কিছু মনগড়া প্রথা ও কুসংস্কারের বিষয়ে সতর্ক করেছেন আলেমরা। হাদিসে মহরমকে ‘আল্লাহর মাস’ বলা হলেও এই মাসে বিয়েশাদি না করা, নতুন ঘর না বাঁধা, মাংস বর্জন বা আনন্দ-উৎসব পরিহার করার কোনো ধর্মীয় ভিত্তি নেই। একইভাবে আশুরার দিন হালুয়া-খিচুড়ি খাওয়াকে জরুরি মনে করা, চোখে সুরমা লাগানো কিংবা নিজের শরীরে আঘাত করে রক্তপাত ঘটানো ইসলামে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এই দিনের একমাত্র বিশুদ্ধ বা সহিহ আমল হলো রোজা রাখা।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী ও সরকারি ছুটি: পবিত্র আশুরা উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান. তারা আশুরার মহান শিক্ষাকে ধারণ করে একটি শান্তিপূর্ণ, মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানান। দিবসটি উপলক্ষে আজ দেশের সকল সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সংবাদপত্র অফিসে ছুটি রয়েছে। বিভিন্ন টেলিভিশন ও বেতারে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা এবং জাতীয় পত্রিকাসমূহে বিশেষ নিবন্ধ প্রকাশ করা হয়েছে।

তাজিয়া মিছিল ও কঠোর নিরাপত্তা: আশুরার মূল আকর্ষণ ঐতিহ্যবাহী তাজিয়া মিছিল আজ সকাল ১০টায় পুরান ঢাকার হোসেনী দালান থেকে শুরু হয়েছে, যা লালবাগ ও আজিমপুর হয়ে ঝিগাতলায় গিয়ে শেষ হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকেই হোসেনী দালানে খুতবা, বয়ান ও বিশেষ দোয়ার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।

শোক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ রাখতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কঠোর নিরাপত্তা ও কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। তাজিয়া মিছিলে চাকু, তরবারি, লাঠি, বর্শার মতো কোনো ধারালো ধাতব বস্তু বহন এবং আতশবাজি ও পটকা ফোটানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে. এছাড়া উচ্চশব্দের মাইক বা ঢাক-ঢোল বাজানো এবং মিছিলে সন্দেহজনক কোনো ব্যাগ বা সুটকেস নিয়ে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে পুলিশ।

প্রাইমটিভি/বিএম