এআই নাকি ধর্মীয় নেতা, 'ফতোয়া’ এখন কার নিয়ন্ত্রণে

এআই ছবি
কোরআন তিলাওয়াতের ভুল সংশোধন থেকে শুরু করে ধর্মীয় প্রশ্নের উত্তর, হজের নির্দেশনা কিংবা ব্যক্তিগত পরামর্শ—মুসলিম বিশ্বে দ্রুত বাড়ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ব্যবহার। তবে এই প্রযুক্তির বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে ধর্মীয় কর্তৃত্ব, ফতোয়ার গ্রহণযোগ্যতা এবং ইসলামি জ্ঞানচর্চার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
টাইম ম্যাগাজিনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনের হিফজ শিক্ষক তারিক কাজি মায়ের মৃত্যুর পর কোরআন তিলাওয়াতের ভুল ধরিয়ে দেওয়ার জন্য ‘তারতিল’ নামের একটি এআই অ্যাপ ব্যবহার শুরু করেন। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বহু হাফেজ ও কোরআন শিক্ষার্থী তিলাওয়াত অনুশীলনে একই ধরনের প্রযুক্তির সহায়তা নিচ্ছেন।
শুধু কোরআন তিলাওয়াতই নয়, ধর্মীয় অনুশীলনের নানা ক্ষেত্রেও এআইয়ের ব্যবহার বাড়ছে। হজ ও ওমরাহ পালনকারীরা ইবাদতের সময়সূচি, আয়াতের অর্থ, ধর্মীয় নির্দেশনা এবং বিভিন্ন মাসআলার উত্তর জানতে এআইভিত্তিক অ্যাপ ব্যবহার করছেন। ‘ইউর ইমাম’ ও ‘আনসারি’র মতো ইসলামি এআই প্ল্যাটফর্মও জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্যালিফোর্নিয়ার প্রযুক্তিবিদ ওয়ালিদ কাদুসের তৈরি ‘আনসারি’ ইতোমধ্যে দেড় লাখের বেশি ধর্মীয় প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে। তবে ইসলামি আইন ও ফতোয়ার মতো সংবেদনশীল বিষয়ে এআই কতটা নির্ভরযোগ্য, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন আলেম ও গবেষকরা।
সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, বিভিন্ন এআই মডেল ইসলামি বিষয়ে তুলনামূলক ভালো উত্তর দিলেও উদ্ধৃতি ও ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে এখনো ভুল থেকে যাচ্ছে। ফলে ধর্মীয় বিষয়ে এআইয়ের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভর না হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
এদিকে মিসরের সরকারি ফতোয়া সংস্থা দার আল-ইফতা আল-মিসরিয়্যাহ কোরআনের তাফসির ও ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে চ্যাটজিপিটির মতো এআই অ্যাপ ব্যবহারে সতর্কতা জারি করেছে। সংস্থাটির মতে, এআইয়ের ব্যাখ্যায় পদ্ধতিগত সীমাবদ্ধতা রয়েছে এবং বিশেষজ্ঞ আলেমের তত্ত্বাবধান ছাড়া ধর্মীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
অন্যদিকে সৌদি আরব, কাতার, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার কয়েকটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান স্কলারদের তত্ত্বাবধানে এআই ব্যবহারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তারা ইসলামি নীতিমালার আলোকে নিজস্ব এআই প্ল্যাটফর্ম ও নৈতিক কাঠামো তৈরির উদ্যোগও নিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তি নিজে ভালো বা খারাপ নয়; বরং এটি কীভাবে, কার তত্ত্বাবধানে এবং কতটা দায়িত্বশীলভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ধর্মীয় জ্ঞান ও মানুষের বিশ্বাসের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে এআইয়ের প্রভাব ভবিষ্যতে আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র: টাইম ম্যাগাজিন
প্রাইমটিভি/এমএইচ

ডেস্ক রিপোর্ট
© 2026 প্রাইম টেলিভিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।









