বিশ্বকাপে লিওনেল মেসির ভবিষ্যৎ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ছিল নানা জল্পনা। তবে এবার সেই অনিশ্চয়তার অবসান ঘটেছে। আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক রেকর্ড ষষ্ঠবারের মতো ফিফা বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাচ্ছেন। বিশ্বকাপের নতুন অধ্যায়ে পা রাখার আগে স্মৃতির পাতায় ফিরে গেছেন ফুটবলের এই মহাতারকা।

যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিত ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের পর্দা উঠেছে ১১ জুন। তবে এখনো মাঠে নামেনি আর্জেন্টিনা। আগামী বুধবার ‘জে’ গ্রুপের প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার মুখোমুখি হবে লিওনেল স্কালোনির দল। একই গ্রুপে রয়েছে অস্ট্রিয়া ও জর্ডান।

প্রথম ম্যাচের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের ছয়টি বিশ্বকাপের স্মৃতি ভাগ করে নিয়েছেন মেসি। পোস্টের ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, ‘২০০৬⚽২০২৬’। ছোট্ট এই বার্তায় যেন দুই দশকের বিশ্বকাপ যাত্রার গল্পই তুলে ধরেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

২০০৬ সালে জার্মানিতে প্রথম বিশ্বকাপ খেলেন মেসি। এরপর ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা, ২০১৪ সালে ব্রাজিল, ২০১৮ সালে রাশিয়া এবং ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে অংশ নেন তিনি। কাতারে আর্জেন্টিনাকে শিরোপা জিতিয়ে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটান এই তারকা ফুটবলার।

২০২৬ বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড়দের একজন হিসেবে ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলার কীর্তি গড়বেন মেসি। একই কৃতিত্ব গড়তে যাচ্ছেন মেক্সিকোর গুইয়ের্মো ওচোয়া এবং পর্তুগালের ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো।

মেসির সামনে যেসব রেকর্ড

বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার সুযোগ রয়েছে মেসির সামনে। বর্তমানে তার গোল সংখ্যা ১৩। এই তালিকায় শীর্ষে আছেন জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসা, যার গোল ১৬টি। এছাড়া ব্রাজিলের রোনালদো নাজারিওর গোল ১৫ এবং গার্ড মুলারের ১৪।

বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টদাতা হওয়ার সুযোগও রয়েছে আর্জেন্টাইন অধিনায়কের। বর্তমানে তার অ্যাসিস্ট ৮টি। ১০ অ্যাসিস্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি পেলে।

এছাড়া আরও একটি বিশ্বকাপ ফাইনালে উঠতে পারলে সবচেয়ে বেশি বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলা ফুটবলারদের বিশেষ তালিকায় নিজের অবস্থান আরও শক্ত করবেন মেসি। ইতোমধ্যে তিনি দুটি বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলেছেন—২০১৪ ও ২০২২ সালে।

মেসি বর্তমানে বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ ২৬ ম্যাচ খেলার রেকর্ডের মালিক। পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি ২৩০০ মিনিট মাঠে থাকার রেকর্ডও তার দখলে। ২০২৬ বিশ্বকাপে এই দুই রেকর্ড আরও উঁচুতে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে তার সামনে।

বিশ্বকাপজয়ী এই আর্জেন্টাইন অধিনায়কের লক্ষ্য এখন শুধু নতুন ইতিহাস গড়া নয়, বরং শিরোপা ধরে রেখে নিজের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে আরও একটি সোনালি অধ্যায় যোগ করা।

প্রাইমটিভি/কেআর