জলাতঙ্ক প্রতিরোধে প্রায় ২০ লাখ ডোজ টিকা আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ জন্য প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের কাছে অনুমোদনের প্রস্তাব পাঠিয়েছে। চলতি মাসেই অনুমোদন পাওয়া গেলে টিকা আমদানি করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান জানিয়েছেন, জলাতঙ্ক নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক আকারে ‘ম্যাস ডগ ভ্যাক্সিনেশন’ কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে ঢাকার বেওয়ারিশ কুকুরগুলোকে টিকাদানের আওতায় আনা হবে, যাতে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি কমানো যায়।

তিনি বলেন, জলাতঙ্ক প্রতিরোধে নতুন একটি প্রকল্প ইতোমধ্যে অনুমোদন পেয়েছে। এ প্রকল্পে ৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। আগামী জুলাই থেকে কার্যক্রম শুরুর কথা থাকলেও প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ না হওয়ায় এখনো কাজ শুরু হয়নি।

প্রকল্পের আওতায় ঢাকা শহরের পোষা কুকুর ও বিড়ালকে জলাতঙ্কের টিকা দেওয়া এবং বন্ধ্যাকরণ করা হবে। পাশাপাশি বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে ভ্যাসেকটমি কার্যক্রমও পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।

স্বাস্থ্য খাতের তথ্য বলছে, কুকুর ও বিড়ালের আক্রমণে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নেওয়া মানুষের সংখ্যা প্রতি বছরই বাড়ছে। ২০২৩ সালে এ সংখ্যা ছিল ৯৪ হাজার ৩৮০ জন। ২০২৪ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১ লাখ ২২ হাজার ২৬৩ জনে এবং ২০২৫ সালে ১ লাখ ৪৬ হাজার ২৪৩ জনে পৌঁছায়। ২০২৬ সালের ১৭ মার্চ পর্যন্ত চিকিৎসা নিয়েছেন ৩৬ হাজার ৭৫১ জন।

জলাতঙ্কে মৃত্যুর সংখ্যাও উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। ২০২৩ সালে ৪২ জন, ২০২৪ সালে ৫৮ জন এবং ২০২৫ সালে ৫৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছরের প্রথম আড়াই মাসেই প্রাণ হারিয়েছেন ১৯ জন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আক্রান্ত কুকুর বা বিড়ালের কামড় কিংবা আঁচড়ের মাধ্যমে জলাতঙ্ক ছড়ায়। কোনো প্রাণী কামড়ালে বা আঁচড়ালে ক্ষতস্থান অন্তত ১৫ মিনিট সাবান ও প্রবাহমান পানি দিয়ে ধুয়ে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। একই সঙ্গে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।

প্রাইমটিভি/এনজি