শুধু গাছ লাগানো নয়, গাছের টিকে থাকা নিশ্চিত করতে ‘প্ল্যান্ট স্কলার’ বা ‘বৃক্ষ বৃত্তি’র একটি উদ্যোগের যাত্রা শুরু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন থেকে উদ্যোগটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

‎সাসটেইনেবল রিসার্চ অ্যান্ড কনসালটেন্সি লিমিটেড (এসআরসিএল), বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্র (সিএপিএস), ক্লাইমেট ফ্রন্টিয়ার ও ফ্লাওয়ারের যৌথ উদ্যোগে এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্যে এসআরসিএলের এমডি ও নগর পরিবেশবিদ আবু জুবায়ের চৌধুরী বলেন, প্ল্যান্ট স্কলার একটি প্রযুক্তিভিত্তিক দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশ আন্দোলন।

এই কর্মসূচির আওতায় দেশের বিভিন্ন জেলা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং কমিউনিটি থেকে নির্বাচিত তরুণদের ‘প্ল্যান্ট স্কলার’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তাদের হাতে তুলে দেওয়া হবে গাছের চারা, আর সেই গাছের পরিচর্যা, সংরক্ষণ এবং বেড়ে ওঠার দায়িত্বও থাকবে তাদের ওপর।

‎সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গাছের নিয়মিত পরিচর্যা, পর্যবেক্ষণ এবং নির্ধারিত সময় পর্যন্ত গাছের সফলভাবে টিকে থাকা নিশ্চিত করার স্বীকৃতি হিসেবে অংশগ্রহণকারী স্কলারদের ‘বৃক্ষ বৃত্তি’ প্রদান করা হবে। এই আর্থিক সহায়তা তরুণদের পরিবেশ সংরক্ষণে দীর্ঘমেয়াদি সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করবে এবং গাছের প্রতি তাদের দায়িত্ববোধ আরও শক্তিশালী করবে।

‎প্রচলিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির তুলনায় প্ল্যান্ট স্কলারের মূল বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এটি গাছ লাগানোই নয়, গাছের টিকে থাকা নিশ্চিত করবে। গাছের প্রতি ব্যক্তিগত ও সামাজিক মালিকানাবোধ সৃষ্টি করা হবে।

এছাড়াও প্রযুক্তিভিত্তিক পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। তরুণদের নেতৃত্ব ও সক্ষমতা বিকাশ করা হবে। কার্বন শোষণ ও জলবায়ু প্রশমনে বাস্তব অবদান পরিমাপ করা হবে।

‘প্ল্যান্ট স্কলার’-এর ভিশন ও মিশন সম্পর্কে জানানো হয়, তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ, প্রযুক্তিনির্ভর পরিবেশ ব্যবস্থাপনা এবং বৃক্ষবৃত্তির মাধ্যমে পরিবেশগত দায়িত্ববোধকে উৎসাহিত করে একটি সবুজ, টেকসই ও জলবায়ু-সহনশীল বাংলাদেশ গড়ে তোলা।

দেশের তরুণদের বৃক্ষরোপণ, দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জলবায়ু কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি বৃক্ষবৃত্তি, প্রশিক্ষণ ও নেতৃত্ব বিকাশের মাধ্যমে একটি দায়িত্বশীল, দক্ষ ও পরিবেশ-সচেতন প্রজন্ম গড়ে তোলা।

‘প্ল্যান্ট স্কলার’-এর বাস্তবায়ন কৌশল সম্পর্কে জানানো হয়, দেশের বিভিন্ন জেলা, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও কমিউনিটি পর্যায় থেকে প্রচারণা, মনোনয়ন এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্ল্যান্ট স্কলার নির্বাচন করা হবে। নির্বাচিত স্কলারদের একটি কেন্দ্রীয় ডাটাবেজের আওতায় এনে প্ল্যান্ট স্কলার নেটওয়ার্ক গঠন করা হবে।

‎নির্বাচিত প্রতিটি স্কলারকে নির্ধারিত প্রজাতির গাছের চারা প্রদান করা হবে। পাশাপাশি তাদের বৃক্ষরোপণ, পরিচর্যা এবং জলবায়ু-সহনশীল ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও নির্দেশনা দেওয়া হবে। স্কলাররা নিজ নিজ এলাকায় গাছ রোপণ করবে এবং সেগুলোর নিয়মিত পরিচর্যা ও পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করবে। নির্ধারিত সময় পর গাছের টিকে থাকা, পরিচর্যার মান এবং নিয়মিত অগ্রগতি প্রতিবেদনের ভিত্তিতে নির্বাচিত স্কলারদের ‘বৃক্ষ বৃত্তি’ প্রদান করা হবে।

‎প্রতিটি স্কলার তার গাছের অভিভাবক ও রক্ষণাবেক্ষণকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। যারফলে গাছের প্রতি ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা, সামাজিক অংশগ্রহণ এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব নিশ্চিত হবে বলেও আশা করছেন উদ্যোক্তারা।

‎সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্রের (সিএপিএস) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আহমেদ কামরুজ্জামান মজুমদার, ফ্লাওয়ারের নির্বাহী পরিচালক সিমিয়া সুচিসহ বিভিন্ন পরিবেশ ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃত্ব উপস্থিত ছিলেন।

প্রাইমটিভি/এমএইচ