চট্টগ্রাম বন্দর থেকে গায়েব পণ্যবোঝাই ২৫০ কন্টেইনার

চট্টগ্রাম বন্দর । প্রাইম টিভি
চট্টগ্রাম বন্দর থেকে রহস্যজনকভাবে গায়েব হয়ে গেছে ২৫০টি পণ্যভর্তি কনটেইনার। চোরাচালান ও শুল্ক ফাঁকির সন্দেহে যেসব কনটেইনারের খালাস আগেই বন্ধ করে দিয়েছিল চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস, সেগুলোরই এখন আর কোনো খোঁজ মিলছে না। বিষয়টিকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও বড় ধরনের হুমকি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
কাস্টমস সূত্র জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কনটেইনারগুলো এসাইকোডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেমে লক করা হয়েছিল। অর্থাৎ এসব কনটেইনার খালাসের কোনো সুযোগ ছিল না। কিন্তু বাস্তবে বন্দরের ইয়ার্ডে গিয়ে সেগুলোর অস্তিত্বই পাওয়া যায়নি।
কাস্টম হাউসের দাবি, ২০২১ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে সন্দেহজনক পাঁচ শতাধিক কনটেইনারের খালাস বন্ধ করা হয়। এর মধ্যে কিছু কনটেইনার পরে বৈধভাবে খালাস বা নিলাম হলেও ২৫০টির কোনো হদিস নেই। এসব কনটেইনারের বিপরীতে কখনো বিল অব এন্ট্রিও দাখিল করা হয়নি।
ঘটনাটি সামনে আসে চলতি বছরে, যখন নিলামে কেনা দুটি কনটেইনার নিতে গিয়ে সেগুলো খুঁজে পাননি ক্রেতা। এরপরই কাগজপত্রের সঙ্গে বাস্তব অবস্থার মিলিয়ে দেখতে গিয়ে বিস্ময়কর এই তথ্য উঠে আসে।
তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ কনটেইনারগুলোর মধ্যে ২০২১ সালের ৮৩টি, ২০২২ সালের ৬১টি, ২০২৩ সালের ৪০টি এবং ২০২৪ সালের ৬৬টি কনটেইনার রয়েছে। কাস্টমসের ধারণা, একটি সংঘবদ্ধ চক্র ডিজিটাল ব্যবস্থার দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে এসব কনটেইনার বন্দর থেকে সরিয়ে নিয়েছে।
কনটেইনারগুলোর অবস্থান জানতে গত সাত মাসে পাঁচ দফায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছে কাস্টম হাউস। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চিঠিরই জবাব মেলেনি বলে অভিযোগ করেছে সংস্থাটি।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের ডেপুটি কমিশনার তারেক মাহমুদ বলেন, গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কনটেইনারগুলোর খালাস বন্ধ করা হয়েছিল। পরে কায়িক পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হলে বন্দরে সেগুলো আর পাওয়া যায়নি। যেহেতু কনটেইনার সংরক্ষণের দায়িত্ব বন্দর কর্তৃপক্ষের, তাই তাদের কাছেই একাধিকবার ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এসব কনটেইনারে শুধু শুল্ক ফাঁকির পণ্যই নয়, অস্ত্র, মাদক বা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ অন্য কোনো সামগ্রীও থাকতে পারে। অতীতে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে বড় অস্ত্রের চালান, কোকেন এবং পপি সিডসহ একাধিক চোরাচালান ধরা পড়ার নজির রয়েছে।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সম্প্রতি বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন, একটি বড় সিন্ডিকেট জাল কাগজপত্র ও ডিজিটাল জালিয়াতির মাধ্যমে পণ্য খালাসের চেষ্টা করছে এবং তাদের শনাক্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় কাজ চলছে।
বন্দর বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো কনটেইনার বন্দর থেকে বের হয়ে গেলে শুধু বন্দরের নিরাপত্তা নয়, কাস্টমসের নজরদারি ব্যবস্থাও প্রশ্নের মুখে পড়ে। তাই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে নিখোঁজ কনটেইনারগুলোর অবস্থান ও ভেতরে থাকা পণ্যের তথ্য দ্রুত উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন তারা।প্রয়োজনে এটিকে ১ মিনিট বা ২ মিনিটের ভিডিও নিউজ স্ক্রিপ্ট হিসেবেও সংক্ষিপ্ত করে দিতে পারি।
প্রাইমটিভি/এনজি

ডেস্ক রিপোর্ট
© 2026 প্রাইম টেলিভিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।








