বিনোদনজগতের তারকাদের উপস্থিতিতে ঝলসে উঠল মিলনায়তন। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ–চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের হল অব ফেমে আলোর রোশনাই, আধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগ, অর্জনের স্বীকৃতি আর জমকালো পরিবেশনায় মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কারের ২৭তম আয়োজন পরিণত হয়েছিল আনন্দ লগনে।

অনুষ্ঠান শুরু হয়েছিল সন্ধ্যা ছয়টায়। প্রধান প্রবেশপথ থেকে মিলনায়তনের সামনের লবি পর্যন্ত ছিল লালগালিচা। সেই রক্তিম পথ ধরে তারা এসেছেন অভ্যর্থনার মঞ্চে। সেখানে তারা সাম্প্রতিক কাজ, পুরস্কার এসব নিয়ে সংক্ষিপ্ত মন্তব্য করেছেন। আলোকচিত্রীদের অনুরোধ রেখেছেন ক্যামেরার সামনে নানান ভঙ্গিমায় দাঁড়িয়ে। ছবি তোলার পরে অনেকেই তাদের সহশিল্পী ও পরিচিতজনদের পেয়ে খানিকটা সময় লবিতে দাঁড়িয়ে মগ্ন হয়েছেন আলাপচারিতায়। আর পায়ে-পায়ে এগিয়ে প্রবেশ করেছেন মিলনায়তনে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রথম আলোর হেড অব কালচারাল প্রোগ্রাম কবির বকুল মঞ্চে এসে সবাইকে স্বাগত জানান। শুভেচ্ছা বক্তব্যে প্রথম আলোর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আনিসুল হক বলেন, আজ এক উদ্‌যাপনের দিন। শিল্পীরা পারেন বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে সুন্দরভাবে বিপুলভাবে বিশ্বের বুকে তুলে ধরতে। এরপর বক্তব্য দেন স্কয়ার টয়লেট্রিজ লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মালিক মোহাম্মদ সাঈদ। তিনি বলেন, প্রথম আলোর সঙ্গে স্কয়ার গ্রুপ দীর্ঘদিন থেকে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে একসঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। সম্প্রতি দেশে অনেক ভালো ভালো চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে।

আগামী দিনগুলোতে আরও ভালো কাজ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। এরপর আজীবন সম্মাননা প্রদান পর্বে উপস্থাপনার জন্য বিশিষ্ট অভিনয়শিল্পী আফজাল হোসেনকে মঞ্চে আসার আমন্ত্রণ জানান আনিসুল হক।

আফজাল হোসেন দর্শকদের স্বাগত জানিয়ে বলেন, মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কারের সবচেয়ে সম্মানজনক পুরস্কারটি হলো ‘আজীবন সম্মাননা’। এ বছর কে পাচ্ছেন আজীবন সম্মাননা, তা দেখে নেব পর্দায়। মঞ্চের এলইডি পর্দায় ভেসে ওঠে জননন্দিত চলচ্চিত্র অভিনেতা আলমগীরের ছবি। দর্শকেরা করতালিতে অভিনন্দিত করেন তাকে। আলমগীরের জীবন ও অভিনীত চলচ্চিত্রের বিভিন্ন দৃশ্য পর্দায় তুলে ধরে তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

মঞ্চে আসেন আলমগীর। তার হাতে পুরস্কার তুলে দেন সংগীতের কিংবদন্তি শিল্পী রুনা লায়লা। সঙ্গে ছিলেন স্কয়ার টয়লেট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অঞ্জন চৌধুরী ও প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান। এরপর মেরিল-প্রথম আলোর পুরস্কারের মূল পর্ব শুরু হয় এক জমকালো পরিবেশনা দিয়ে। একঝাঁক সহশিল্পী নিয়ে যন্ত্রবাদনের সঙ্গে আধুনিক নৃত্য পরিবেশনায় অংশ নেন মন্দিরা চক্রবর্তী, প্রার্থনা ফারদিন দীঘি, পারসা ইভানা ও সুনেরাহ বিনতে কামাল। এরপর মঞ্চে আসেন এই প্রজন্মের জনপ্রিয় অভিনয়শিল্পী মেহজাবীন চৌধুরী। চমৎকার পরিবেশনার জন্য এই চার শিল্পীকে করতালি দিয়ে অভিনন্দন জানান দর্শক।