ভূমিকম্পে কাঁপল ভেনেজুয়েলা, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬৪

ছবি- এন ডি টিভি
দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ১৬৪ জন নিহত এবং ৯৭১ জন আহত হয়েছেন। দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানিয়েছেন।
বুধবার (২৪ জুন) সন্ধ্যায় ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার পরপর দুটি ভূমিকম্পে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে এটি ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পগুলোর অন্যতম বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
প্রথমদিকে নিহতের সংখ্যা ৩২ জন বলা হলেও উদ্ধার কার্যক্রম এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬৪ জনে পৌঁছেছে। আহত হয়েছেন অন্তত ৯৭১ জন।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উপকূলীয় লা গুইরা অঙ্গরাজ্য। অঞ্চলটিকে ‘দুর্যোগ এলাকা’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত ফুটেজে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জীবিত তিন শিশুকে উদ্ধার করতে দেখা যায়।
ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ বুধবার রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। তিনি চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের দ্রুত হাসপাতালে যোগ দিয়ে আহতদের সেবায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বহু ভবন ধসে পড়েছে, বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে গেছে এবং সড়কে ধ্বংসস্তূপ জমে যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। রাজধানী কারাকাসের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
ভূমিকম্পে দেশটির প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সিমন বলিভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কারাকাস মেট্রো রেল চলাচলও স্থগিত রাখা হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে কয়েক দিনের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেছে সরকার।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভূমিকম্পের সময় মানুষ আতঙ্কে ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসে। অনেকেই রাত কাটিয়েছেন খোলা আকাশের নিচে, গাড়িতে কিংবা গণপরিবহন কেন্দ্রগুলোতে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS) জানিয়েছে, প্রথম ৭ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ক্যারিবীয় উপকূলের মোরন শহরের পশ্চিমে। মাত্র এক মিনিট পর একই এলাকায় ৭ দশমিক ৫ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প আঘাত হানে।
দুর্যোগ মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশ সহায়তার হাত বাড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং মানবিক সহায়তা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে। এছাড়া কাতার, মেক্সিকো, এল সালভাদর ও ইকুয়েডরও উদ্ধার তৎপরতায় সহায়তা পাঠিয়েছে বলে জানিয়েছে ভেনেজুয়েলা সরকার।
ভূমিকম্পের পর প্রশান্ত মহাসাগরীয় সুনামি সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে সুনামি সতর্কতা জারি করা হলেও পরে তা প্রত্যাহার করা হয়।
উদ্ধারকর্মীরা এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের খুঁজে বের করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। ফলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তথ্য সূত্র- এন ডি টিভি
প্রাইমটিভি/কেআর

ডেস্ক রিপোর্ট
© 2026 প্রাইম টেলিভিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।









