যুদ্ধবিরতি কার্যকরের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সাময়িকভাবে সংঘাত থেকে সরে এসে কূটনৈতিক আলোচনার পথে ফিরলেও যুদ্ধের প্রভাব এখনো কাটেনি। বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের সদরদপ্তরে ইরানি হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের সামরিক স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেছে ওয়াশিংটন।

বাহরাইনের ‘নেভাল সাপোর্ট অ্যাক্টিভিটি বাহরাইন’ ঘাঁটিটি মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদরদপ্তর এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অভিযানের প্রধান কমান্ড সেন্টার হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এটি যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের বাইরে অবস্থিত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিগুলোর একটি।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ফেব্রুয়ারির শেষভাগ থেকে জুন পর্যন্ত ইরান একাধিক দফায় এই ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। অধিকাংশ হামলা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিহত করা হলেও কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা বলয় ভেদ করে ঘাঁটির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আঘাত হানে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলায় ঘাঁটির প্রধান কমান্ড হেডকোয়ার্টার, এক ডজনেরও বেশি ভবন এবং মার্কিন বাহিনীর ব্যবহৃত দুটি স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি পেন্টাগন।

মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, হামলার আগেই অধিকাংশ সেনা ও কর্মকর্তাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ায় কোনো প্রাণহানি ঘটেনি। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স বলেন, অবকাঠামো রক্ষার চেয়ে সেনাসদস্যদের জীবন সুরক্ষাকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছিল, যা কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে।

তার দাবি, পুরো সংঘাত চলাকালে ইরান ৮ হাজারের বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করলেও মাত্র দুটি ঘটনায় মার্কিন সেনাদের প্রাণহানি ঘটেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলা দেখিয়ে দিয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে সুরক্ষিত সামরিক ঘাঁটিগুলোও আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঝুঁকি থেকে পুরোপুরি নিরাপদ নয়। তুলনামূলক কম খরচের অস্ত্র ব্যবহার করেও গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবকাঠামোয় আঘাত হানার সক্ষমতা দেখিয়েছে ইরান।

এ পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কৌশলে পরিবর্তনের আলোচনা শুরু হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা এখন একটি বড় ঘাঁটিতে বিপুলসংখ্যক সেনা ও সরঞ্জাম রাখার পরিবর্তে সেগুলো বিভিন্ন ঘাঁটিতে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা বিবেচনা করছেন। পাশাপাশি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিরোধ সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।

প্রাইমটিভি/এমএইচ