আবারও ইরানে ভয়াবহ মার্কিন হামলা

ছবিঃ সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মাত্র এক সপ্তাহের মাথায় আবারও রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি। এই নৌপথে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন হামলার জেরে ইরানে বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। পাল্টা জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে তেহরান। দুই পরাশক্তির এই মুখোমুখি অবস্থানে গত ১৭ জুন স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি এখন ভেস্তে যাওয়ার মুখে।
শনিবার (২৭ জুন) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বৃহস্পতিবার হরমুজ প্রণালিতে সিঙ্গাপুরভিত্তিক বাণিজ্যিক জাহাজ ‘এভার লাভলি’-তে ভয়াবহ ড্রোন হামলা চালানো হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই ঘটনাকে সমঝোতা স্মারকের ‘স্পষ্ট ও মূর্খতাসুলভ লঙ্ঘন’ বলে আখ্যা দেন। এর জবাবে গতকাল শুক্রবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের উপকূলীয় রাডার স্টেশন এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সংরক্ষণাগার লক্ষ্য করে জোরালো বিমান হামলা চালায়।
এদিকে মার্কিন হামলার পর এক বিবৃতিতে ইরানের ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানায়, তারা মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। সরকারি সংবাদ সংস্থা ইরনায় প্রকাশিত ঐ বিবৃতিতে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আবারও কোনো হামলা হলে এর চেয়েও ব্যাপক ও কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
এই পাল্টাপাল্টি সংঘাতের জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল, সারসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আবারও আকাশচুম্বী হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এছাড়া, হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া ১১ হাজারেরও বেশি আন্তর্জাতিক নাবিককে উদ্ধারে জাতিসংঘের উদ্যোগে শুরু হওয়া বিশেষ মিশনটি স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশন (আইএমও)।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এই নৌপথকে নিরাপদ রাখতে ওমান সালতানাত আইএমও-এর সাথে সমন্বয় করে একটি ফ্রি ‘অস্থায়ী সামুদ্রিক করিডোর’ চালুর ঘোষণা দিয়েছে। তবে তীব্র সামরিক উত্তেজনার কারণে এই করিডোর ব্যবহার করে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল কতটা নিরাপদ হবে, তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক নৌ-নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।
প্রাইমটিভি/বিএম

ডেস্ক রিপোর্ট
© 2026 প্রাইম টেলিভিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।







