রাম মন্দিরে কোটি কোটি রুপির দুর্নীতির অভিযোগ, চাপে মোদী সরকার

রাম মন্দিরে দুর্নীতির অভিযোগ । সংগৃহীত
ভারতের উত্তর প্রদেশের অযোধ্যায় অবস্থিত বহুল আলোচিত রাম মন্দিরে ব্যাপক দুর্নীতি ও অনুদান আত্মসাতের অভিযোগ ঘিরে দেশটির রাজনীতিতে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। কোটি কোটি রুপির অনুদানের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় চাপের মুখে পড়েছে মন্দির ট্রাস্ট, উত্তর প্রদেশ সরকার এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন সরকার।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অযোধ্যার বাসিন্দা ও রামভক্তদের অভিযোগ, ধর্মীয় বিশ্বাসকে পুঁজি করে মন্দির পরিচালনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা ভক্তদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। বহু বছর ধরে রাম মন্দির আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরাও এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
স্বাধীন শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্ট মন্দিরটি পরিচালনা করলেও, এর নির্বাহী সদস্যদের অনেকেই আরএসএস ও বিজেপির সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
চলতি মাসে ট্রাস্টের হিসাব বিভাগের সাবেক তত্ত্বাবধায়ক মহিপাল সিং অনিয়মের অভিযোগ প্রকাশ্যে আনেন। পরে সমাজবাদী পার্টির নেতা ও উত্তর প্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব দাবি করেন, মন্দিরের অনুদানের বিপুল অর্থের হিসাব মিলছে না।
বিতর্কের মুখে উত্তর প্রদেশ সরকার তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তদন্তের বিস্তারিত প্রকাশ না হলেও পুলিশ ফৌজদারি মামলা করেছে এবং অনুদানের নগদ অর্থ ও মূল্যবান উপহার গণনার সঙ্গে জড়িত অন্তত আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
এদিকে বহু ভক্ত অভিযোগ করেছেন, তারা মন্দিরে দান করা রুপার ইট, সোনার গয়না ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রীর কোনো খোঁজ পাচ্ছেন না।
এরই মধ্যে দীর্ঘদিনের সাধারণ সম্পাদক চম্পট রায়সহ কয়েকজন শীর্ষ ট্রাস্টি পদত্যাগ করেছেন। রাম মন্দির আন্দোলনের অন্যতম মুখ হিসেবে পরিচিত চম্পট রায়ের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে।
১৯৯২ সালে বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ঘটনায় অভিযুক্তদের একজন সন্তোষ দুবে অভিযোগ করে বলেন, অসৎ ব্যক্তিরা রাম মন্দির পরিচালনা করছে এবং এমন এক ভয়ের পরিবেশ তৈরি করেছে, যেখানে কেউ তাদের বিরুদ্ধে কথা বলতে সাহস পাচ্ছে না।
আগামী বছরের শুরুতে উত্তর প্রদেশে বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিকভাবে রাম মন্দির ইস্যুকে ব্যবহার করা বিজেপির জন্য এই দুর্নীতির অভিযোগ বড় ধরনের অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিষয়টি শুধু আর্থিক অনিয়মের নয়, বরং কোটি কোটি মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গেও জড়িত। অন্যদিকে বিরোধীদের অভিযোগ, প্রকৃত দায়ীদের আড়াল করে নিম্নপদস্থ কর্মচারীদের বলির পাঁঠা বানানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। ফলে রাম মন্দিরকে ঘিরে বিজেপির দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বয়ান এখন নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
প্রাইমটিভি/এনজি

ডেস্ক রিপোর্ট
© 2026 প্রাইম টেলিভিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।








