করাচিতে সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলায় ভারতীয় প্রক্সির সম্পৃক্ততার অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ আখ্যা দিয়ে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত। একই সঙ্গে ইসলামাবাদকে নিজ ভূখণ্ডে থাকা সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে নয়াদিল্লি।

সোমবার (২৯ জুন) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানায়, গত সপ্তাহে করাচিতে পাকিস্তান রেঞ্জার্সের (সিন্ধ) প্রাদেশিক সদর দপ্তরে হামলার পর দুই দেশের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

হামলার দায় স্বীকার করেছে জামাত-উল-আহরার, যাদের আফগানিস্তানভিত্তিক তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর ঘনিষ্ঠ সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ওই হামলায় পাকিস্তানের তিন নিরাপত্তা সদস্য ও তিন হামলাকারী নিহত হন।

ঘটনার পর পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি কোনো প্রমাণ প্রকাশ না করেই হামলায় ভারতীয় প্রক্সির সম্পৃক্ততার অভিযোগ তোলেন।

এর জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, করাচির ঘটনাকে ঘিরে পাকিস্তানি গণমাধ্যমে ভারতের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

তিনি বলেন, “আমরা এসব অভিযোগ স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করছি। অন্যের দিকে অভিযোগের আঙুল তোলার পরিবর্তে পাকিস্তানের উচিত নিজের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির দিকে নজর দেওয়া।”

রণধীর জয়সওয়াল আরও বলেন, পাকিস্তানের উচিত নিজ ভূখণ্ডে সক্রিয় সন্ত্রাসী অবকাঠামোর বিরুদ্ধে বিশ্বাসযোগ্য ব্যবস্থা নেওয়া এবং রাষ্ট্রনীতির হাতিয়ার হিসেবে সন্ত্রাসবাদ ব্যবহারের নীতি থেকে সরে আসা।

এদিকে পাকিস্তান দাবি করেছে, আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী এলাকায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত স্থল অভিযান এবং পরবর্তী বিমান হামলায় ২৯ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে।

পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার বলেন, খাইবার পাখতুনখোয়া, বেলুচিস্তান এবং করাচিতে পাকিস্তান রেঞ্জার্সের ক্যাম্প ও বেসামরিক নাগরিকদের ওপর সাম্প্রতিক ধারাবাহিক সন্ত্রাসী হামলার পর এসব অভিযান চালানো হয়েছে।

করাচি হামলাকে কেন্দ্র করে ভারত ও পাকিস্তানের পরস্পরবিরোধী অবস্থান দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সূত্র: এনডিটিভি