ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলের যুদ্ধের কোনো শেষ নেই। একই সময়ে দেশটির ভেতরে প্রকাশিত নতুন জরিপ ও গবেষণায় উঠে এসেছে, ইসরাইলি সমাজে বাড়ছে বর্ণবাদী মনোভাব এবং যুদ্ধের প্রভাবে ভয়াবহ মানসিক সংকট।

মঙ্গলবার টেলিভিশন চ্যানেল ১৪ নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, হামাস ও হিজবুল্লাহর নেতাদের হত্যা এবং গাজা, লেবানন ও সিরিয়ায় সামরিক অভিযানের মাধ্যমে ইসরাইল অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছে। তিনি দাবি করেন, ইরানে হামলা চালিয়ে ইসরাইল দীর্ঘদিনের ভয়ের দেয়ালও ভেঙে দিয়েছে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর ঘোষিত ‘নিশ্চিত বিজয়’ অর্জনের লক্ষ্য এখনো বাস্তবসম্মত কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে নেতানিয়াহু বলেন, এই যুদ্ধের কোনো শেষ নেই। তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে টিকে থাকতে হলে শক্তিশালী হওয়া ছাড়া বিকল্প নেই এবং বর্তমানে ইসরাইল আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি শক্তিশালী।

গাজার বাসিন্দাদের স্বেচ্ছায় দেশান্তরের প্রসঙ্গেও ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন নেতানিয়াহু। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু না বলে তিনি জানান, তিনি কথার চেয়ে কাজে বেশি বিশ্বাসী।

এদিকে, ইসরাইলি দৈনিক হারেৎসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির শিক্ষার্থীদের মধ্যে বর্ণবাদী দৃষ্টিভঙ্গি উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জরিপ অনুযায়ী, অনেক শিক্ষার্থী মনে করে ফিলিস্তিনি নাগরিকসহ কিছু গোষ্ঠীর ইসরাইলি সমাজের অংশ হওয়ার অধিকার নেই। একই সঙ্গে অনেক ইহুদি শিক্ষার্থী ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সমাধানের সম্ভাবনায়ও আর বিশ্বাস করছে না।

অন্যদিকে, ওয়াইনেট প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের প্রভাবে ইসরাইলি রিজার্ভ সেনাদের পরিবারগুলো মারাত্মক মানসিক সংকটে রয়েছে। জরিপে দেখা গেছে, সাত বছরের কম বয়সী বিপুলসংখ্যক শিশু যুদ্ধজনিত মানসিক আঘাতের লক্ষণে ভুগছে। শুধু শিশুরাই নয়, তাদের বাবা-মায়ের মধ্যেও উচ্চমাত্রার মানসিক চাপ ও ট্রমার প্রভাব দেখা যাচ্ছে।

গবেষকদের সতর্কবার্তা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সহায়তা না পেলে এই সংকট আগামী বহু বছর ধরে ইসরাইলি সমাজের ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। বর্তমানে দেশটি মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার এক বড় সুনামির মুখোমুখি বলে উল্লেখ করা হয়েছে গবেষণায়।

সূত্র: মিডেল ইস্ট আই

প্রাইমটিভি/এনজি