রূপালি পর্দা থেকে সিরিয়ার পার্লামেন্টে: কে এই অভিনেত্রী?

ছবিঃ সংগৃহীত
আসাদ-পরবর্তী সিরিয়ার নতুন অন্তর্বর্তীকালীন সংসদে স্থান পেয়েছেন দেশটির জনপ্রিয় অভিনেত্রী, মডেল ও টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব রোজিনা লাজকানি। অভিনয়জগতের পরিচিত এই তারকা এবার আইনপ্রণেতা হিসেবে দেশের পুনর্গঠনে ভূমিকা রাখতে যাচ্ছেন।
দীর্ঘদিনের শাসক বাশার আল-আসাদের সরকারের পতনের পর নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে সিরিয়া। দেশ পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা ২১০ সদস্যের অন্তর্বর্তীকালীন পিপলস অ্যাসেম্বলি (সংসদ) গঠন করেছেন। এরই অংশ হিসেবে সাংবিধানিক ক্ষমতাবলে মনোনীত ৭০ সদস্যের তালিকায় স্থান পেয়েছেন রোজিনা লাজকানি।
নতুন সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য স্থানীয় প্রতিনিধিদের মাধ্যমে নির্বাচিত হলেও বাকি এক-তৃতীয়াংশকে সরাসরি মনোনয়ন দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট। মনোনীতদের মধ্যে রয়েছেন সংস্কৃতিকর্মী, মানবাধিকারকর্মী, গৃহযুদ্ধে নিহতদের স্বজন, সাবেক রাজনৈতিক বন্দী এবং রাসায়নিক হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিরা। মোট ২১ জন নারী সদস্যের মধ্যে রোজিনা লাজকানি ১৫ জন মনোনীত নারী সদস্যের একজন।
১৯৯০ সালে দামেস্কে জন্ম নেওয়া রোজিনা লাজকানি হায়ার ইনস্টিটিউট অব ড্রামাটিক আর্টস থেকে সিনোগ্রাফিতে পড়াশোনা করেন। ২০১৩ সালে ‘ওয়েটিং’ নাটকের মাধ্যমে অভিনয়জগতে পরিচিতি পাওয়ার পর ‘ইনটেনসিভ কেয়ার’, ‘শৌক’, ‘মা ফিয়ি’, ‘আল-হায়বা: দ্য পেব্যাক’ এবং ‘তাহত এল আরদ’-সহ একাধিক জনপ্রিয় টেলিভিশন সিরিজে অভিনয় করে আরব বিশ্বে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
শিল্পী পরিচয়ের পাশাপাশি রাজনৈতিক অবস্থানেও ছিলেন স্পষ্টভাষী রোজিনা। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের দিকে নিয়ে যাওয়া সিরীয় বিপ্লবের প্রকাশ্য সমর্থন জানান তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও শুরু থেকেই আসাদবিরোধী অবস্থান তুলে ধরেন এবং সরকার পতনের পর আনন্দ প্রকাশ করে বিভিন্ন পোস্ট শেয়ার করেন।
সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এক বিবৃতিতে রোজিনা লাজকানি বলেন, দেশের মানুষের সেবা করার সুযোগ পেয়ে তিনি সম্মানিত ও কৃতজ্ঞ। তিনি সিরিয়ার পুনর্গঠন, উদ্বাস্তুদের মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তন এবং জাতীয় পরিচয়ের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে সংস্কৃতি ও শিল্পের বিকাশে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, জনপ্রিয় অভিনেত্রী থেকে সংসদ সদস্য—রোজিনা লাজকানির এই যাত্রা শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়; বরং আসাদ-পরবর্তী নতুন সিরিয়ার রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক রূপান্তরেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক।
প্রাইমটিভি/এমএইচ

ডেস্ক রিপোর্ট
© 2026 প্রাইম টেলিভিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।







