একের পর এক ইসরায়েলির মৃত্যু, দেশজুড়ে নতুন আতঙ্ক

ছবি: সংগৃহীত
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের সময় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কায় দীর্ঘদিন ধরেই নিরাপত্তা উদ্বেগে রয়েছে ইসরায়েল। তবে বাইরের হুমকির পাশাপাশি দেশটির অভ্যন্তরেও বাড়ছে সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ড। বিশেষ করে আরব জনগোষ্ঠীর মধ্যে অপরাধজনিত প্রাণহানির ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
রোববার (৫ জুলাই) টাইমস অব ইসরায়েল প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে চলতি বছরের হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে।
প্রতিবেদনে উঠে এসেছে উত্তর ইসরায়লের ১০ বছর বয়সী এক শিশু শিরিনের গল্প। চার বছর আগে নিজ বাড়ির সামনে ছুরিকাঘাতে বাবাকে হারানোর পর থেকে নিরাপত্তাহীনতা ও শোক নিয়েই বেড়ে উঠছে সে। নিরাপত্তার স্বার্থে নাম পরিবর্তন করা ওই শিশুটি বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানায়, বাবার মৃত্যুর পর তার জীবনে নিরাপত্তাবোধ একেবারেই হারিয়ে গেছে।
শিরিনের পরিবারের দাবি, এক মাতাল কিশোরের আকস্মিক হামলায় তার বাবা নিহত হন। হামলাকারীর সঙ্গে পরিবারের কোনো পূর্বপরিচয় ছিল না। পরে তাকে গ্রেপ্তার করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
পর্যবেক্ষকদের মতে, অপরাধচক্রের তৎপরতা, পারিবারিক বিরোধ, অবৈধ অস্ত্রের সহজলভ্যতা এবং পুলিশের কার্যকর পদক্ষেপের অভাব ইসরায়েলের আরব জনগোষ্ঠীর মধ্যে সহিংসতা বাড়িয়ে তুলছে।
সহাবস্থানবিষয়ক সংগঠন আব্রাহাম ইনিশিয়েটিভস জানিয়েছে, চলতি বছর এখন পর্যন্ত সহিংস ঘটনায় ১৪০ জনের বেশি আরব ইসরায়েলি নিহত হয়েছেন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১২ শতাংশ বেশি।
এদিকে, অভিভাবক হারানো শিশুদের নিয়ে কাজ করা সংগঠন সানফ্লাওয়ার্স-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী হাদার কেস বলেন, শুধু গত বছরই আরব সমাজে অপরাধ ও সহিংসতার কারণে ২৩২টির বেশি শিশু বাবা অথবা মাকে হারিয়েছে। তার মতে, অভিভাবক হারানো শিশুদের মধ্যে অপরাধে জড়িয়ে পড়া ও শিক্ষা থেকে ঝরে পড়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
ইসরায়েলের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২১ শতাংশ আরব সংখ্যালঘু। তাদের অভিযোগ, ইহুদি সংখ্যাগরিষ্ঠদের তুলনায় তারা বৈষম্যের শিকার হন এবং সহিংস ঘটনার যথাযথ তদন্তেও ব্যর্থ হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
আব্রাহাম ইনিশিয়েটিভসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ২৬ জুন পর্যন্ত সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের মধ্যে মাত্র ১৬টি মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল হয়েছে, যা মোট ঘটনার মাত্র ১২ দশমিক ৩ শতাংশ। তবে ইসরায়েল পুলিশ জানিয়েছে, প্রতিটি ঘটনাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে এবং স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় করে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কাজ চলছে।
এরই মধ্যে গত রোববার গাড়িবোমা ও বন্দুক হামলায় পাঁচজন আরব ইসরায়েলি নিহত হন। পুলিশের ধারণা, এসব ঘটনার পেছনে অপরাধচক্র ও পারিবারিক বিরোধ জড়িত। এর কয়েক দিন আগে উপকূলীয় শহর ইয়াফায় একটি সুপারমার্কেটে খণ্ডকালীন কাজ করার সময় গুলিতে নিহত হন ১৭ বছর বয়সী আহমেদ জাবারি।
আহমেদের স্মরণে আয়োজিত শোকসভায় স্থানীয় বাসিন্দারা সহিংসতা বন্ধের দাবি জানান। ইয়াফা শহরের মুসলিম কাউন্সিলের চেয়ারম্যান আবেদ আবু শেহাদেহ অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং আরব সম্প্রদায়ের প্রতি রাষ্ট্রীয় নীতির প্রতিফলন।
প্রাইমটিভি/এমআর

ডেস্ক রিপোর্ট
© 2026 প্রাইম টেলিভিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।








