হলের বৈধ আবাসিক কার্ড না থাকা সত্ত্বেও হলে অবস্থান করার অভিযোগ উঠেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের তিন কর্মীর বিরুদ্ধে। তারা সবাই ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। ওই তিন শিক্ষার্থীর নামে বৈধ আবাসিক কার্ড ইস্যু করা হয়নি বলে নিশ্চিত করেছেন হল কর্তৃপক্ষ।

অভিযুক্ত ছাত্রদল কর্মীরা হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের লতিফুর রহমান (২৮৩ নম্বর রুমে থাকেন), বাংলা বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের আরিফ শাহরিয়ার (৪৪৩ নম্বর রুমে থাকেন) ও ফার্মেসি বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের নাহিদুল ইসলাম (১১৯ নম্বর রুমে থাকেন)। শাখা ছাত্রদলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে তাদের উপস্থিতি দেখা যায়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, লতিফুর রহমান ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ হবিবুর রহমান হল সংসদের কার্যনির্বাহী সদস্য পদে নির্বাচন করেছিলেন। এছাড়া জামালপুর-২ আসনে ধানের শিষের প্রচারণার জন্য তাকে দায়িত্ব দেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। তার অ্যাটাচমেন্ট শহীদ হবিবুর রহমান হলেও থাকছেন সোহ্‌রাওয়ার্দী হলে। অন্যদিকে আরিফ শাহরিয়ার ও নাহিদুল ইসলামকে ছাত্রদলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে থাকতে দেখা গেছে।

সোহ্‌রাওয়ার্দী হলের অফিস সহকারী মো. আব্দুর রহিম বলেন, আপনি যে রুমের (১১৯, ২৮৩ ও ৪৪৩ নং) নম্বরগুলো বললেন, ওই রুমগুলোতে একটি করে সিট খালি আছে। তবে আপনি (প্রতিবেদক) যে নামগুলো বললেন ওই নামের কাউকে সংশ্লিষ্ট রুমগুলোর আবাসিক কার্ড দেওয়া হয়নি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নাহিদুল ইসলাম বলেন, আপনি আমার সাথে দেখা করেন। আমার হলের কার্ড আছে কি না আমি আপনাকে বলব কেন? আপনি কে? আপনি কোথাকার সাংবাদিক, আপনি আসেন আমার কাছে দেখা করেন।

অভিযোগের বিষয়ে আরিফ শাহরিয়ার বলেন, আমি আমার এক বড় ভাইয়ের সিটে থাকি। আমার ওই বড় ভাই হলে থাকেন না, বাহিরে থাকেন, তাই ওনার সিটে আমি থাকতেছি। আর আমি রাজনৈতিকভাবে ছাত্রদলের সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত নই।

অভিযুক্ত ছাত্রদল কর্মী লতিফুর রহমান বলেন, আমার অ্যাটাচমেন্ট শহীদ হবিবুর রহমান হল। তবে আমি সোহ্‌রাওয়ার্দী হলের ২৮৩ নম্বর রুমে কিছু দিন ছিলাম। আমি মেসেই থাকতাম। তবে মেস পরিবর্তন করার পরিপ্রেক্ষিতে একটু বিপদে পড়ে এক বড় ভাইয়ের অনুমতি নিয়ে তার রুমে আমি থাকতাম। তিনি ঈদুল আজহার ছুটিতে যখন বাসায় গিয়েছিলেন তখন ১৫ থেকে ২০ দিন আমি তার অনুমতি নিয়ে রুমে ছিলাম।

কর্মীদের অবৈধভাবে হলে থাকার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, আমি তাদেরকে চিনি না। তারা যে ছাত্রদল করে এটাই আমি জানি না। ছাত্রদলের কেউ দরিদ্র হয়ে থাকলে হয়তো দরিদ্র কোটায় উঠতে পারে।

ছাত্রদলের কর্মী হয়ে থাকলে কী ব্যবস্থা নেবেন— এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এই বিষয়ে হল প্রভোস্ট ভালো বলতে পারবে। সে কীভাবে হলে তুলেছে, কার সুপারিশে তুলেছে, এটা তার ভালো জানার কথা। হল প্রভোস্ট শিবিরের কাউকে তুলে ছাত্রদল পরিচয় দিলে সেটি তো হবে না। ছাত্রদলের নামে আমরা কাউকে হলে উঠতে দেবো না। আমরা ছাত্রদলের কোনো ছেলেকে হলে তোলার জন্য হল প্রভোস্টের সাথে যোগাযোগ করিনি।

এ বিষয়ে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের প্রাধ্যক্ষক ড. মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, আজকে যেহেতু অফিস টাইম শেষ হয়ে গেছে, তাই ঘটনা যদি সত্য হয়ে থাকে তাহলে আগামীকাল জানাতে পারব। যারা অবৈধভাবে হলে আছে তাদের হল ত্যাগ করার নির্দেশ দিয়ে ইতোমধ্যে একটা নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আমরা দেখছি বিভিন্ন হলে এমন অবৈধভাবে শিক্ষার্থীরা অবস্থান করছে। অভিযোগের বিষয়ে সত্যতা যাচাই করব। সত্যতা পাওয়া গেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রাইমটিভি/এমএইচ