রাতে ঘুমানোর আগে যে ৪টি আমল মুমিনের জীবন বরকতময় করে

রাতে ঘুমানোর আগে মুমিনের আমল । প্রাইম টিভি
ব্যস্ত দিনশেষে প্রশান্তির ঘুমের জন্য আমরা কত কিছুই না করি। তবে ইসলামী শিক্ষা অনুযায়ী, ঘুমানোর আগের কিছু সংক্ষিপ্ত ও নিয়মিত আমল একজন মানুষের রাতকে কেবল নিরাপদই করে না, বরং তা আল্লাহর সন্তুষ্টি ও অফুরন্ত কল্যাণের মাধ্যম হয়ে ওঠে। বিভিন্ন সহিহ হাদিসের আলোকে এমন ৪টি সুন্নাহভিত্তিক আমলের কথা জানা যায়, যা শয়তানের অনিষ্ট থেকে সুরক্ষা এবং আল্লাহর ক্ষমা লাভে অত্যন্ত কার্যকর।
অজু করে ঘুমানো
পবিত্রতা ঈমানের অঙ্গ। ঘুমানোর আগে অজু করার মাধ্যমে শরীর ও মন যেমন সতেজ হয়, তেমনি এর একটি বড় আধ্যাত্মিক ফজিলত রয়েছে। হাদিস অনুযায়ী যে ব্যক্তি পবিত্র তথা অজু অবস্থায় রাত কাটায়, তার জন্য একজন ফেরেশতা নিয়োজিত হন। ওই ফেরেশতা ঘুমে থাকা ব্যক্তির জন্য আল্লাহর দরবারে ক্ষমার দোয়া করতে থাকেন।
আয়াতুল কুরসি তিলাওয়াত
রাতের সুরক্ষার জন্য আয়াতুল কুরসি তিলাওয়াত করা অন্যতম সেরা একটি আমল। সহিহ হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, রাতে ঘুমানোর আগে কেউ আয়াতুল কুরসি পাঠ করলে আল্লাহর পক্ষ থেকে তার জন্য একজন হেফাজতকারী বা রক্ষক ফেরেশতা নিযুক্ত করা হয়। ফলে সকাল হওয়া পর্যন্ত শয়তান তার কোনো ক্ষতি করতে পারে না।
তাসবিহ ও জিকির পাঠ
ঘুমানোর আগে নির্ধারিত তাসবিহ ও আল্লাহর জিকির করার বিশেষ ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। হাদিসে এসেছে, নির্দিষ্ট কিছু জিকির একশতবার পাঠ করলে মানুষের নেকি বৃদ্ধি পায়, গুনাহ মাফ হয় এবং শয়তানের যেকোনো অনিষ্ট থেকে সুরক্ষা মেলে। পবিত্র কুরআনেও আল্লাহ তাআলা সব সময় তাঁর স্মরণে একনিষ্ঠ থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।
বিতরের নামাজ আদায়
ঘুমানোর আগে প্রথম গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো বিতরের নামাজ আদায় করা। হাদিস শরিফে বিতর নামাজকে প্রত্যেক মুসলিমের জন্য অত্যন্ত জরুরি সুন্নাহ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বর্ণিত আছে, আল্লাহ তাআলা নিজে বেজোড় এবং তিনি বেজোড়কে (বিতর) ভালোবাসেন। তাই রাতে ঘুমানোর আগেই এই নামাজ সম্পন্ন করার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ইসলামী গবেষকদের মতে, একজন মুমিনের জন্য এই আমলগুলো নিয়মিত চর্চা করা অত্যন্ত ফলদায়ক। এর মাধ্যমে শুধু যে রাতের ঘুম নিরাপদ ও বরকতময় হয় তা-ই নয়, বরং দুনিয়া ও আখিরাতের সার্বিক কল্যাণ লাভের পথও সুগম হয়।
প্রাইমটিভি/এনজি

ডেস্ক রিপোর্ট
© 2026 প্রাইম টেলিভিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।








