‘পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি ছাড়া ইরানের হাতে আর কোনো বিকল্প নেই’

ছবিঃ সংগৃহীত
ইরানের সামনে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথ ছাড়া আর কোনো কার্যকর বিকল্প নেই—এমন বিতর্কিত দাবি প্রকাশ করেছে দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজ। রক্ষণশীল মহল এবং ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত সংবাদমাধ্যমটির এ প্রতিবেদন নতুন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক আগ্রাসন ঠেকাতে এবং দেশটিকে দখল বা বিভক্ত করার পরিকল্পনা ব্যর্থ করতে পারমাণবিক প্রতিরোধ সক্ষমতা অর্জনের বিকল্প নেই। এমন সক্ষমতা অর্জন করলেই কেবল শত্রুপক্ষের সামরিক বিকল্প কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়বে বলে দাবি করা হয়েছে।
তবে প্রতিবেদনে প্রকাশিত এই মতামতের পক্ষে এখন পর্যন্ত ইরানের কোনো সরকারি কর্মকর্তা প্রকাশ্যে সমর্থন দেননি। বরং দেশটির শীর্ষ নেতৃত্ব দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছে, তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই।
ফার্স নিউজের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, কার্যকর নিরাপত্তা নিশ্চয়তা পেতে ইরানকে অবশ্যই পারমাণবিক প্রতিরোধ সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। এরপরই অন্যান্য বিরোধপূর্ণ বিষয় শক্ত অবস্থান থেকে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব হবে।
প্রতিবেদনটির ভাষ্য অনুযায়ী, পারমাণবিক প্রতিরোধ সক্ষমতা অর্জনের অর্থ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মতো পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশের সঙ্গে শক্তির ভারসাম্য তৈরি করা। এতে যুদ্ধ পুরোপুরি বন্ধ হবে—এমন নয়, তবে সংঘাতের পরিধি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে বলে দাবি করা হয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বরাবরই দাবি করে আসছেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখাই দেশটির বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের কঠোর অবস্থান এবং সাম্প্রতিক সংঘাতের অন্যতম প্রধান কারণ।
তবে ফার্স নিউজের এই অবস্থান ইরানের দীর্ঘদিনের সরকারি নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। দেশটির সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এক ফতোয়ার মাধ্যমে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি ও ব্যবহারের প্রচেষ্টা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন। পাশাপাশি ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তারাও বারবার বলে আসছেন, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির উদ্দেশ্য শুধুই বেসামরিক ও শান্তিপূর্ণ।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের ঘনিষ্ঠ একটি সংবাদমাধ্যমে এ ধরনের বক্তব্য প্রকাশ দেশটির অভ্যন্তরীণ নীতিনির্ধারণী মহলে চলমান বিতর্কের ইঙ্গিত দিতে পারে। তবে সরকারিভাবে নীতিগত কোনো পরিবর্তনের ঘোষণা না আসা পর্যন্ত এটিকে ইরানের আনুষ্ঠানিক অবস্থান হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।
সূত্র: সিএনএন
প্রাইমটিভি/এমএইচ

ডেস্ক রিপোর্ট
© 2026 প্রাইম টেলিভিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।




