২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব শুরু হয়েছে। প্রতিটি ম্যাচই যেন বাঁচা মরার লড়াই। একটি ভুল ব্যার্থ করে দিতে পারে বছরের পর বছরের পরিশ্রম। আবার কেউ হারিয়ে যাবেন ফুটবল ইতিহাস থেকে।

বিশ্বকাপ ফুটবল যেন তারকাদের মেলা। এই মেলার সবচেয়ে উজ্জ্বল তারকাদের অন্যতম আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি। তিন ম্যাচে ছয় গোল করে প্রমাণ করেছেন নিজেকে। এর ফলে বিশ্বকাপের বিভিন্ন আসর মিলিয়ে তার মোট গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯, যা পুরুষ ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

অবাক করার মতো বিষয় হলো, চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি গোলের মুকুট মেসির দখলে। চারটি করে গোল করে এরই পরেই রয়েছে ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে, ব্রাজিলের ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, নরওয়ের এরলিং হলান্ডের।

তবে ফিফার নতুন ‘পাওয়ার র‍্যাঙ্কিং’-এ শীর্ষে নেই ‘দ্যা গোট’ খ্যাট মেসি। গ্রুপ পর্ব শেষে এবং রাউন্ড অব ৩২ শুরুর আগে প্রকাশিত এই র‍্যাঙ্কিংয়ে মেসির অবস্থান দ্বিতীয়। তালিকায় এমবাপ্পের অবস্থান তৃতীয়। তবে সেলেসাও স্ট্রাইকার ভিনিসিয়ুস জুনিয়র শীর্ষস্থান তিনে স্থান না পেলেও জায়গা করে নিয়েছেন চতুর্থ স্থানে।

ফিফার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, পাওয়ার র‍্যাঙ্কিং হলো ম্যাচ ও পুরো টুর্নামেন্টে একজন খেলোয়াড়ের পারফরম্যান্সের তথ্যভিত্তিক মূল্যায়ন। মাঠের খেলোয়াড়দের আক্রমণ, সৃজনশীলতা ও রক্ষণ—এই তিন বিভাগে ০ থেকে ১০-এর মধ্যে নম্বর দেওয়া হয়। গোলরক্ষকদের ক্ষেত্রে বলের নিয়ন্ত্রণ ও গোলরক্ষা—এই দুই বিভাগে মূল্যায়ন করা হয়।

শীর্ষে কে?

ফিফার সর্বশেষ পাওয়ার র‍্যাঙ্কিংয়ে এক নম্বরে রয়েছেন জার্মানির ফরোয়ার্ড ডেনিজ উনদাভ। ভিএফবি স্টুটগার্টের এই ফুটবলার আক্রমণে ৮.৩৬, সৃজনশীলতায় ৬.৭৮ এবং রক্ষণে ৪.৭০ নম্বর পেয়েছেন।

WhatsApp Image 2026-06-30 at 5.41.26 PM

দ্বিতীয় স্থানে থাকা মেসির আক্রমণে ৮.৩৪, সৃজনশীলতায় ৬.৪৩ এবং রক্ষণে ৫.১৪ নম্বর রয়েছে।

তৃতীয় স্থানে থাকা কিলিয়ান এমবাপ্পের স্কোর যথাক্রমে ৮.১৩, ৭.২৫ ও ৪.৫৯। চতুর্থ স্থানে থাকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের স্কোর ৭.৯২, ৬.৩৯ ও ৪.৭৫।

অন্যদিকে, পর্তুগালের ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো রয়েছেন ৭৯তম স্থানে। তার আক্রমণ, সৃজনশীলতা ও রক্ষণে প্রাপ্ত নম্বর যথাক্রমে ৫.৭২, ৪.৯৮ ও ৪.৭৪।

বিশ্বকাপের চমক ডেনিজ উনদাভ

২০২৬ বিশ্বকাপের অন্যতম চমক হয়ে উঠেছেন ইয়াজিদি সম্প্রদায়ের কুর্দি বংশোদ্ভূত জার্মানির স্ট্রাইকার ডেনিজ উনদাভ। ফলে জার্মানির হয়ে খেললেও বিশ্বমঞ্চে তিনি এমন দুটি জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করছেন।

বদলি হিসেবে নেমে উনদাভ তিনটি গোল করেছেন এবং আরও দুটি গোলে সহায়তা করেছেন। এতে তিনি মেসি, এমবাপ্পে ও ভিনিসিয়ুসের মতো তারকাদের ঠিক পেছনেই অবস্থান করছেন।

এক সংবাদ সম্মেলনে উনদাভ বলেন, তার পারফরম্যান্স যদি বিশ্বের মানুষ, বিশেষ করে ইয়াজিদি সম্প্রদায়ের তরুণদের অনুপ্রাণিত করে, তবে সেটিই হবে তার সবচেয়ে বড় অর্জন।

তিনি বলেন, ‘আমার বাবা-মা আমাকে নিয়ে গর্বিত। তারা এটা সব সময় আমাকে বলে। এটি আমাকে আনন্দ দেয়। বিশেষ করে ইয়াজিদি সম্প্রদায় থেকেও কেউ যখন বিশ্বমঞ্চে পরিচিতি পাচ্ছে।’

প্রাইমটিভি/এমএইচ