রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে একের পর এক ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ায় জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আতঙ্কের চেয়ে এখন বেশি প্রয়োজন প্রস্তুতি। তাদের মতে, বাংলাদেশে ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতির প্রধান কারণ শুধু ভূকম্পন নয়, বরং অপরিকল্পিত নগরায়ন, দুর্বল ভবন নির্মাণ এবং দুর্যোগ মোকাবেলায় পর্যাপ্ত প্রস্তুতির অভাব।

ভূতত্ত্ববিদদের ভাষ্য, ঘন ঘন মৃদু মাত্রার ভূমিকম্প অনেক ক্ষেত্রে ভূগর্ভে সঞ্চিত শক্তির একটি অংশ নির্গত করতে সাহায্য করে, যা বড় ধরনের ভূমিকম্পের সম্ভাব্য ঝুঁকি কিছুটা কমাতে পারে। তবে এটিকে কোনোভাবেই বড় ভূমিকম্পের নিশ্চয়তা বা পূর্বাভাস হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

গত বছরের ২১ নভেম্বর সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে রিখটার স্কেলে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা। প্রায় ৩০ সেকেন্ড স্থায়ী ওই কম্পনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মানুষ ভবন ছেড়ে খোলা স্থানে আশ্রয় নেন। ওই ঘটনায় ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদীতে ১০ জনের মৃত্যু হয় এবং কয়েকশ মানুষ আহত হন।

এরপর চলতি বছরের জুন মাসেও কয়েক দিনের ব্যবধানে অন্তত তিনটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। সর্বশেষ ২২ জুন নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার এলাকাকে কেন্দ্র করে রিখটার স্কেলে ৪ মাত্রার একটি ভূমিকম্প ঢাকাসহ আশপাশের এলাকায় অনুভূত হয়, যা নতুন করে জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

বিশেষজ্ঞরা জানান, ভারতীয়, ইউরেশীয় ও বার্মা—এই তিনটি টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলের কাছাকাছি অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলের মধ্যে রয়েছে। বিশেষ করে সিলেটের ডাউকি ফল্ট, মিয়ানমার সীমান্তবর্তী এলাকা এবং হিমালয়ের পাদদেশের সক্রিয় ভূতাত্ত্বিক অঞ্চলগুলো বড় ধরনের ভূমিকম্পের ঝুঁকি বহন করছে।

তাদের মতে, ভূমিকম্প ঠেকানো সম্ভব নয়, তবে এর ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। এজন্য কঠোরভাবে ভূমিকম্প-সহনশীল ভবন নির্মাণবিধি বাস্তবায়ন, অপরিকল্পিত নগরায়ন নিয়ন্ত্রণ, পুরোনো ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের মূল্যায়ন, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং দুর্যোগ মোকাবেলার সক্ষমতা বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। এখনই কার্যকর উদ্যোগ না নিলে মাঝারি মাত্রার একটি ভূমিকম্পও ঘনবসতিপূর্ণ শহরগুলোতে বড় মানবিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

প্রাইমটিভি/এমএইচ