বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় একটি ব্রিজের ঢালাইয়ে রডের পরিবর্তে বাঁশের কঞ্চি ব্যবহারের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে উপজেলা প্রশাসন। অভিযোগের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ব্রিজের ঢাল অংশে বাঁশের কঞ্চির ব্যবহার দেখতে পান কর্মকর্তারা। পরে ওই অংশ নতুন করে রড দিয়ে নির্মাণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ব্রিজটি উপজেলার রত্নপুর ইউনিয়নের বারোপাইকা গ্রামে নির্মাণ করা হয়েছে। স্থানীয় ১৫টি পরিবারের চলাচল এবং বিলাঞ্চল থেকে ধান পরিবহনের সুবিধার্থে এটি নির্মাণ করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ব্রিজটির ঠিকাদার ছিলেন ইউপি সদস্য সোহেল মোল্লা। তিনি নিজস্ব অর্থায়নে প্রায় দেড় লাখ টাকা ব্যয়ে ব্রিজ নির্মাণ করেন। পরে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সেই অর্থ পরিশোধ করার কথা রয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রায় ৬০ ফুট দীর্ঘ ব্রিজ নির্মাণের পর ঢাল (অ্যাপ্রোচ) তৈরি করতে গিয়ে অতিরিক্ত প্রায় ১৫ ফুট কাজ করতে হয়। এ সময় রডের পাশাপাশি বাঁশের কঞ্চি ব্যবহার করে ঢালাই দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

অভিযোগের পর গত ২৯ জুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিখন বণিক ও উপজেলা প্রকৌশলী রবীন্দ্র চক্রবর্তী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তারা ব্রিজের ঢাল অংশ ভেঙে সেখানে বাঁশের কঞ্চির উপস্থিতি দেখতে পান। তবে পরে ঠিকাদারের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে মূল ব্রিজের মাঝামাঝি অংশ পরীক্ষা করে সেখানে বাঁশের কঞ্চির কোনো ব্যবহার পাওয়া যায়নি।

উপজেলা প্রকৌশলী রবীন্দ্র চক্রবর্তী বলেন, অভিযোগের সত্যতা মিলেছে ঢাল অংশে। তবে মূল সেতুর কাঠামোতে বাঁশের কঞ্চির ব্যবহার পাওয়া যায়নি। ঠিকাদার জানিয়েছেন, অতিরিক্ত ঢাল নির্মাণের সময় তিনি বাঁশের কঞ্চি ব্যবহার করেছিলেন, যা মূল কাজের আওতায় ছিল না।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিখন বণিক জানান, ঢাল অংশে বাঁশের কঞ্চি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর ঠিকাদারকে ওই অংশ ভেঙে পুনরায় রড ব্যবহার করে ঢালাই দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে ঠিকাদার সোহেল মোল্লা দাবি করেছেন, এলাকাবাসীর সুবিধার কথা বিবেচনা করেই তিনি নিজস্ব অর্থায়নে ব্রিজ নির্মাণ করেছেন। তার ভাষ্য, মূল ব্রিজে নয়, অতিরিক্ত ঢাল নির্মাণের সময় রডের সঙ্গে কিছু বাঁশের কঞ্চি ব্যবহার করা হয়েছে। তবে প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক কাজ করতে তিনি প্রস্তুত রয়েছেন।

প্রাইমটিভি/এমএইচ