মুসলমানদের বিশ্বাস অনুযায়ী, শয়তান মানুষকে সবসময় পাপ ও অন্যায়ের পথে প্ররোচিত করার চেষ্টা করে। তাই শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে বাঁচতে আল্লাহর স্মরণ ও কোরআনের নির্দিষ্ট আয়াত তেলাওয়াতের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে হাদিসে আয়াতুল কুরসিকে অন্যতম শ্রেষ্ঠ আমল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

আয়াতুল কুরসি সুরা আল-বাকারার ২৫৫ নম্বর আয়াত। রাসুলুল্লাহ (সা.) একে কোরআনের সর্বশ্রেষ্ঠ আয়াত হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। হাদিস অনুযায়ী, রাতে ঘুমানোর আগে এবং সকাল-সন্ধ্যায় এ আয়াত পাঠ করলে আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ হেফাজত লাভ করা যায় এবং শয়তানের অনিষ্ট থেকে নিরাপদ থাকা সম্ভব।

সহিহ বুখারির একটি বিখ্যাত হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, সাহাবি আবু হুরায়রা (রা.) রমজানে সদকাতুল ফিতরের খাদ্য পাহারা দেওয়ার দায়িত্বে ছিলেন। টানা তিন রাত এক ব্যক্তি খাদ্য চুরি করতে এলে তিনি তাকে আটক করেন। প্রতিবারই ওই ব্যক্তি নিজের অভাবের কথা বলে মুক্তি পেয়ে যায়।

তৃতীয় রাতে ওই ব্যক্তি আবু হুরায়রা (রা.)-কে বলেন, ঘুমানোর আগে যদি আয়াতুল কুরসি পাঠ করা হয়, তাহলে আল্লাহ একজন ফেরেশতাকে পাহারার দায়িত্ব দেন এবং সকাল পর্যন্ত শয়তান তার কাছে আসতে পারে না।

পরদিন আবু হুরায়রা (রা.) ঘটনাটি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জানালে তিনি বলেন, ওই ব্যক্তি সত্য কথা বলেছে, যদিও সে বড় মিথ্যাবাদী। এরপর রাসুল (সা.) জানান, তিন রাত ধরে যে ব্যক্তি এসেছিল, সে আসলে একজন শয়তান ছিল। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২৩১১)

ইসলামি পণ্ডিতদের মতে, আয়াতুল কুরসি আল্লাহর একত্ব, সর্বশক্তিমত্তা, সর্বজ্ঞতা ও সার্বভৌমত্বের ঘোষণা বহন করে। এ কারণেই এটি নিয়মিত তেলাওয়াতের প্রতি বিশেষ উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।

হাদিসের আলোকে, সকালে আয়াতুল কুরসি পাঠ করলে সারাদিন এবং রাতে ঘুমানোর আগে পাঠ করলে ভোর পর্যন্ত আল্লাহর হেফাজত লাভের আশা করা যায়। তাই দৈনন্দিন আমলের অংশ হিসেবে এই আয়াত নিয়মিত তেলাওয়াত করার প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন ইসলামি শিক্ষাবিদরা।

প্রাইমটিভি/এমএইচ