ব্রাজিলের জার্সিতে আর দেখা যাবে না নেইমার জুনিয়রকে। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় বলেছেন সেলেসাওদের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা এই তারকা ফরোয়ার্ড।

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। ম্যাচের যোগ করা সময়ের দশম মিনিটে পেনাল্টি থেকে দলের একমাত্র গোলটি করেন নেইমার। সেটিই হয়ে থাকল ব্রাজিলের জার্সিতে তার শেষ গোল।

ম্যাচ শেষে আবেগঘন কণ্ঠে অবসরের ঘোষণা দিয়ে ৩৪ বছর বয়সী এই ফুটবলার বলেন, তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। এখানেই তার যাত্রার সমাপ্তি।

ব্রাজিলের হয়ে ১৩০ ম্যাচে ৮০ গোল এবং ৫৯টি অ্যাসিস্ট করেছেন নেইমার। দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডও তার দখলে। ২০১৩ সালে ফিফা কনফেডারেশন্স কাপ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। এছাড়া ২০১৬ রিও অলিম্পিকে ব্রাজিলকে প্রথমবারের মতো ফুটবলের স্বর্ণপদক এনে দেন অধিনায়ক হিসেবে।

চোট কাটিয়ে বিশ্বকাপ দলে জায়গা পেলেও পুরো টুর্নামেন্টে নিজের সেরা ছন্দে ছিলেন না নেইমার। নরওয়ের বিপক্ষেও তিনি বদলি হিসেবে মাঠে নেমে পেনাল্টি থেকে গোল করেন। সেই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে তার মোট গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ৯। পাশাপাশি কিংবদন্তি পেলের পর দ্বিতীয় ব্রাজিলিয়ান হিসেবে চারটি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করার কীর্তিও গড়েন তিনি।

তবে ব্যক্তিগত অর্জন ব্রাজিলকে বিদায় থেকে রক্ষা করতে পারেনি। ২০০২ সালের পর বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ইউরোপের কোনো দলের বিপক্ষে জয়হীন থাকার হতাশাজনক ধারাও অব্যাহত থাকল সেলেসাওদের।

শেষ বাঁশির পর চোখের জল লুকাতে পারেননি নেইমার। এরপরই আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন তিনি। বিশ্বকাপ ট্রফি জয়ের স্বপ্ন পূরণ না হলেও গোল, অ্যাসিস্ট এবং অসংখ্য স্মরণীয় পারফরম্যান্সে ব্রাজিল ফুটবলের ইতিহাসে নেইমার জুনিয়র চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

প্রাইমটিভি/এনজি