কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তির অপব্যবহার করে পরিচালিত একটি বিশাল আন্তর্জাতিক সাইবার প্রতারণা চক্রের বিরুদ্ধে মামলা করেছে প্রযুক্তি জায়ান্ট গুগল। ‘আউটসাইডার এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি চীনা সাইবার অপরাধী নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। চক্রটি আসল ওয়েবসাইটের হুবহু নকল তৈরি করে বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ মানুষের ব্যক্তিগত ও আর্থিক তথ্য হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ গুগলের।

প্রতারণার অবিশ্বাস্য পরিসংখ্যান

আদালতে জমা দেওয়া গুগলের অভিযোগপত্র থেকে জানা যায়, এই অপরাধী চক্রটির নেটওয়ার্ক ও কার্যপরিধি ছিল বিশাল

ভুয়া ওয়েবসাইট: মাত্র অল্প কিছুদিনের মধ্যে চক্রটি ৯ হাজারেরও বেশি ভুয়া ওয়েবসাইট তৈরি করেছে।

ডোমেইন ব্যবহার: প্রতারণার কাজে তারা ১ মিলিয়নেরও বেশি ভুয়া ডোমেইন ব্যবহার করেছে।

ভুয়া বার্তা: মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের ফোনে ২৫ লাখের বেশি প্রতারণামূলক বার্তা (SMS) পাঠানো হয়েছে।

যেভাবে চলতো প্রতারণা

প্রতারকরা গুগলসহ বিশ্বের বিভিন্ন নামী-দামী ও পরিচিত প্রতিষ্ঠানের নাম ও লোগো ব্যবহার করে সাধারণ ব্যবহারকারীদের বিভ্রান্ত করত। এআই প্রযুক্তির সহায়তায় তারা নিমিষেই আসল ওয়েবসাইটের মতো হুবহু নকল সাইট বানিয়ে ফেলত। ফলে সাধারণ ব্যবহারকারীরা সেগুলোকে আসল মনে করে সহজেই নিজেদের পাসওয়ার্ড, ক্রেডিট বা ব্যাংক কার্ডের তথ্য এবং অন্যান্য সংবেদনশীল আর্থিক তথ্য সেখানে দিয়ে দিতেন।

এফবিআই (FBI) এর ভয়াবহ তথ্য

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই (FBI) জানিয়েছে, ২০২৩ সালের জুলাই থেকে শুরু করে এই চক্রটি অন্তত ৩৮ লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি ক্রেডিট কার্ডের তথ্য চুরি করেছে। এর ফলে সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১.৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (যা বাংলাদেশী মুদ্রায় কয়েক হাজার কোটি টাকা)। গুগল ধারণা করছে, সব মিলিয়ে সামগ্রিক আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ কয়েক শ কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে।

গুগলের আইনি পদক্ষেপ

ক্যালিফোর্নিয়ার ফেডারেল আদালতে দায়ের করা এই মামলায় গুগল মূলত তিনটি বড় অভিযোগ এনেছে

সুপরিকল্পিত প্রতারণা

কপিরাইট বা মেধাস্বত্ব লঙ্ঘন

অবৈধ অপরাধী নেটওয়ার্ক পরিচালনা

গুগল আদালতের কাছে এই বিপুল ক্ষয়ক্ষতির জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে। পাশাপাশি অভিযুক্ত ‘আউটসাইডার এন্টারপ্রাইজ’ নেটওয়ার্কের সমস্ত অনলাইন কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বন্ধের নির্দেশনা চেয়েছে।

বিশ্লেষকদের উদ্বেগ ও সতর্কতা

প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে পরিচালিত সাইবার অপরাধের মধ্যে এটি অন্যতম বৃহত্তম ও মারাত্মক ঘটনা। এআই-এর কারণে এখন সাইবার অপরাধীরা আরও নিখুঁতভাবে মানুষকে বোকা বানাতে পারছে।

বিশেষজ্ঞরা সাধারণ ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, যেকোনো লিংকে ক্লিক করার আগে বা কোথাও ব্যক্তিগত ও ব্যাংকিং তথ্য দেওয়ার আগে ওয়েবসাইটের ইউআরএল (URL) এবং সত্যতা ভালোভাবে যাচাই করে নেওয়া উচিত।

প্রাইমটিভি/এনজি