চুয়াডাঙ্গায় বাসশ্রমিকদের ওপর হামলার ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবিতে আন্তজেলার পাঁচটি রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের তিনটি সংগঠন যৌথভাবে এ কর্মসূচি পালন করছে। দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে দূরপাল্লার বাস চলাচলও বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পরিবহন শ্রমিক নেতারা।

ধর্মঘট আহ্বানকারী সংগঠনগুলো হলো—চুয়াডাঙ্গা জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি, চুয়াডাঙ্গা জেলা বাস-মিনিবাস মালিক গ্রুপ এবং চুয়াডাঙ্গা জেলা বাস-মিনিবাস-কোচ ও মাইক্রোবাস সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন।

আজ সকালে চুয়াডাঙ্গা আন্তজেলা বাস টার্মিনাল ও দৌলাতদিয়াড় বাসস্ট্যান্ডে যাত্রীবাহী বাসগুলোকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। বাস চলাচল বন্ধ থাকায় শহরের একাডেমি মোড়, কোর্ট মোড় ও বড়বাজার বাসস্ট্যান্ডে ইজিবাইকের চাপ বেড়েছে। আন্তজেলা রুটের যাত্রীরাও বাধ্য হয়ে ইজিবাইক ও ব্যাটারিচালিত ভ্যানে গন্তব্যে যাচ্ছেন।

যাত্রীদের অভিযোগ, বাস বন্ধ থাকায় ঝুঁকি নিয়ে বিকল্প যানবাহনে চলাচল করতে হচ্ছে। পাশাপাশি গুনতে হচ্ছে বাড়তি ভাড়াও।

যাত্রী তোলাকে কেন্দ্র করে বিরোধ

পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার বিকেলে শহরতলীর দৌলাতদিয়াড় এলাকায় যাত্রী তোলাকে কেন্দ্র করে বাসশ্রমিকদের সঙ্গে ইজিবাইক শ্রমিকদের ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। এর জেরে ইজিবাইক চালকেরা সংগঠিত হয়ে ওই দিন আলুকদিয়া এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাস থামিয়ে চালক ও সুপারভাইজারকে মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে।

ঘটনার পর পরিবহন শ্রমিকেরা দৌলাতদিয়াড় বাসস্ট্যান্ডে সড়কে বাস আড়াআড়ি রেখে প্রতিবাদ জানান। হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিও তোলেন তাঁরা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

তবে হামলার ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার না হওয়ায় শুক্রবার বিকেল থেকে বাস চালানো থেকে বিরত থাকেন পরিবহন শ্রমিকেরা। পরে সন্ধ্যায় জেলা বাস-মিনিবাস মালিক গ্রুপের কার্যালয়ে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের তিনটি সংগঠনের যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, আলুকদিয়ায় বাসশ্রমিকদের ওপর হামলার ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত বাস চলাচল বন্ধ রাখা হবে।

দূরপাল্লার বাস বন্ধের হুঁশিয়ারি

চুয়াডাঙ্গা জেলা বাস-মিনিবাস মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম বলেন, যৌথ সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আজ থেকে আন্তজেলার পাঁচটি রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। দ্রুততম সময়ে সমস্যার সমাধান না হলে দূরপাল্লার পরিবহন বন্ধসহ আরও কঠোর কর্মসূচি নেওয়া হতে পারে।

চুয়াডাঙ্গা জেলা বাস-মিনিবাস-কোচ ও মাইক্রোবাস সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি এম জেনারেল ইসলামও একই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেন, বিষয়টির দ্রুত সমাধান না হলে যেকোনো মুহূর্তে দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হবে।

এদিকে জেলা সড়ক নিরাপত্তা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সড়কে ইজিবাইকের চলাচল নিয়ন্ত্রণে উপজেলা ও পৌরসভাভিত্তিক আলাদা রং নির্ধারণ করে দেওয়ার দাবিও জানিয়েছে পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠনগুলো।

দ্রুত সমাধানের আশ্বাস প্রশাসনের

চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, বিষয়টি নিয়ে পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা হয়েছে। পরিবহন মালিক-শ্রমিকসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সমস্যার সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মিনহাজ-উল-ইসলাম বলেন, আলুকদিয়ার ঘটনায় পরিবহন শ্রমিকদের লিখিত অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি সার্বিক সমস্যা সমাধানে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

বাস চলাচল বন্ধ থাকায় চুয়াডাঙ্গার আন্তজেলা রুটের যাত্রীদের ভোগান্তি বেড়েছে। দ্রুত বিরোধের সমাধান না হলে পরিবহন ধর্মঘট আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।