মাঠ কিংবা মাঠের বাইরে ফুটবলে বিতর্ক মানেই সবার আগে আর্জেন্টিনার নাম। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইয়ের তথ্যে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর এক অপরাধের চিত্র। বিশ্বকাপ বাছাই পর্ব ও কোপা আমেরিকার মত বড় টুর্নামেন্টগুলোর সম্প্রচার সত্ত্ব নিজেদের দখলে রাখতে দুপক্ষের মধ্যে বিনিময় হয়  মোটা অংকের অর্থ। ফিফা কর্মকর্তাকে ঘুষ দেয়ার অপরাধে গ্রেফতার হয়েছেন দুই আর্জেন্টাইন ব্যবসায়ী।

বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব,  কোপা আমেরিকা , ফুটবলের বড় বড় আসরের সম্প্রচার স্বত্ব ঘিরে এবার উঠেছে গুরুতর ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগ। গুঞ্জন উঠেছে সম্প্রচার স্বত্ব বাগিয়ে নিতে ফিফার শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছে গিয়েছে কোটি কোটি ডলার ঘুষ। আর প্রতিটি ম্যাচের সম্প্রচার স্বত্বকে ঘিরে চলেছে বিপুল অঙ্কের অর্থের লেনদেন।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এই ঘুষের টাকা শেষ পর্যন্ত যেত কার পকেটে? আর কেনই বা দেওয়া হতো এত বিপুল পরিমান অর্থ?

এই কেলেঙ্কারিতে নাম ছড়িয়েছে আর্জেন্টিনার দুই ব্যবসায়ীর। বাবা হুগো জিনকিস এবং ছেলে মারিও জিনকিস—দুজনই দেশটির ক্রীড়া বিপণন প্রতিষ্ঠান ফুল-প্লের সহমালিক। মার্কিন আদালতে দাখিল করা নথি অনুযায়ী, বিশ্বকাপ ও অন্যান্য বড় ফুটবল আসরের সম্প্রচার স্বত্ব পেতে ফিফা, কনকাকাফ ও কনমেবলের কর্মকর্তাদের ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ ছিল, ঘুষের বিনিময়ে নিয়মের বাইরে গিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সম্প্রচার স্বত্ব বাগিয়ে নিতেন তারা।
শুধু তাই নয়, পেতেন আরও নানা ধরনের ব্যবসায়িক সুবিধা।

তবে তদন্তকারীদের দাবি, ম্যাচের ফলাফল কিংবা মাঠের খেলাকে প্রভাবিত করা ছিল এসব ঘুষের উদ্দেশ্য নয়। মূল লক্ষ্য ছিল—মিডিয়া ও বিপণন ব্যবসায় বাড়তি সুবিধা নিশ্চিত করা।

মার্কিন আদালতে অভিযোগ স্বীকার করেছেন জিনকিস বাবা-ছেলে। তাদের বিরুদ্ধে করা হয়েছে আর্থিক জরিমানাও। ২০১৫ সালে ফিফার দুর্নীতি কেলেঙ্কারি ফাঁস হওয়ার পর বিশ্ব ফুটবলে শুরু হয় তোলপাড় ।
মার্কিন তদন্তে সামনে আসে—দীর্ঘ প্রায় ২৪ বছর ধরে ফিফার সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল ঘুষ ও দুর্নীতির একটি বিশাল নেটওয়ার্ক। আর সেই তদন্তের রেশ এখনো কাটেনি।

মামলার আইনি প্রক্রিয়া চলমান। নতুন তদন্তে ফিফার আরও কর্মকর্তা কিংবা সংশ্লিষ্ট অন্য ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সামনে আসতে পারে। ফুটবল যেখানে কোটি কোটি মানুষের আবেগের নাম,
সেখানেই সম্প্রচার স্বত্ব আর বিপণন ব্যবসাকে ঘিরে এমন ঘুষের অভিযোগ নতুন করে তুলছে বড় প্রশ্ন।

 প্রাইমটিভি/এআই