‘আপনার অভিনয় আমার ভাল্লাগে’—বাটন ফোনের যুগে গভীর রাতে এক তরুণীর ফোনে বলা এই কথাই বদলে দিয়েছিল অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরীর জীবন। অভিনয়ের প্রশংসা করতে ফোন করা সেই তরুণীই পরে হয়ে ওঠেন তাঁর জীবনসঙ্গী। সামনাসামনি দেখা হওয়ার আগেই ফোনালাপের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠে সম্পর্ক, আর মাসখানেকের মধ্যেই আসে বিয়ের সিদ্ধান্ত।

২৮ আগস্ট ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে বিয়ের ২০ বছর পূর্তি উপলক্ষে সেই পুরোনো গল্প স্মরণ করেছেন চঞ্চল চৌধুরী। পোস্টের শুরুতেই তিনি লেখেন, ‘বিশে বিষক্ষয়!’

চঞ্চলের সঙ্গে শান্তা চৌধুরীর পরিচয় ২০০৫ সালে। সে সময় গ্রামীণফোনের বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজ করে অভিনয়জগতে পরিচিতি পেতে শুরু করেছেন তিনি। চঞ্চলের বড় ভাই তখন পুরান ঢাকার ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজে শিক্ষকতা করতেন। শান্তা ছিলেন তাঁর ভাইয়ের ছাত্রী।

একসময় চঞ্চলের বাবা অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলে বাবাকে দেখতে সেখানে যান তিনি। সেখানেই প্রথম চঞ্চলকে দেখেন শান্তা। পরে কোনোভাবে তাঁর ফোন নম্বর সংগ্রহ করে ফোন করেন। কথার শুরুটা ছিল অভিনয় নিয়ে প্রশংসা দিয়ে। কিন্তু সেই ফোনালাপই ধীরে ধীরে দুজনের মধ্যে তৈরি করে অন্যরকম এক সম্পর্ক।

চঞ্চল জানান, তখন তাঁর বয়সও বাড়ছিল, আর পরিবার থেকেও বিয়ের জন্য চাপ ছিল। একপর্যায়ে ফোনে কথা বলতে বলতেই শান্তাকে সরাসরি প্রশ্ন করেন, ‘তুমি কি আমাকে বিয়ে করবে?’ শান্তাও ইতিবাচক উত্তর দেন। এরপর আর সময় নষ্ট করেননি তাঁরা। সামনাসামনি দেখা না হলেও নিজেদের সিদ্ধান্তেই বিয়ে করার পথে এগিয়ে যান।

তবে বিয়েতে দুই পরিবারের সম্মতি শুরুতে সমান ছিল না। চঞ্চলের পরিবার খুশি হলেও শান্তার পরিবারের কয়েকজন ছিলেন ঘোর আপত্তিতে, কেউবা নিমরাজি। কারণ, শান্তা ছিলেন চিকিৎসক। তাঁর মা-বাবার ইচ্ছা ছিল মেয়ের বিয়ে কোনো চিকিৎসকের সঙ্গেই হোক। অন্যদিকে তখন অভিনয়ে পরিচিতি পেতে শুরু করেছেন চঞ্চল।

শেষ পর্যন্ত পরিবারের আপত্তিকে খুব বেশি গুরুত্ব না দিয়ে নিজেদের সিদ্ধান্তেই বিয়ে করেন দুজন। তাঁদের বিয়েটিও হয় দুই ধাপে—প্রথমে আইনি প্রক্রিয়ায় কাগজপত্রে বিয়ে, পরে ধর্মীয় রীতিতে আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।

বিয়ের পরও শ্বশুরবাড়িতে সহজে জায়গা করে নিতে পারেননি চঞ্চল। শান্তার বাবা-মা শুরুতে এই বিয়ে মেনে নিতে পারেননি। সময়ের সঙ্গে অবশ্য পরিস্থিতি বদলায়। শান্তার বাবা মারা যাওয়ার পর তাঁর মা জামাই হিসেবে চঞ্চলকে গ্রহণ করেন।

দেখতে দেখতে সেই সংসার পেরিয়ে গেছে দুই দশক। ২৭ আগস্ট চঞ্চল ও শান্তার বিয়ের ২০ বছর পূর্ণ হয়েছে। দীর্ঘ দাম্পত্যের কথা বলতে গিয়ে চঞ্চল লিখেছেন, ‘কখনো ভাবিইনি যে আমার মতো বাউন্ডুলের সঙ্গে ভদ্রমহিলা এত দিন সংসার করবে!’

চঞ্চল ও শান্তার সংসারে একমাত্র সন্তান শুদ্ধ। ২০ বছর পর পুরোনো সেই প্রেম ও বিয়ের গল্প সামনে এনে নিজের জন্য কোনো চাওয়া রাখেননি অভিনেতা। স্ত্রী শান্তা ও ছেলে শুদ্ধের জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন তিনি। জানিয়েছেন, সৃষ্টিকর্তার আশীর্বাদে তাঁরা ভালো আছেন।