বন্যার আগে সতর্ক করেনি চীন, দাবি নেপালের

ছবিঃ সংগৃহীত
নেপাল ও তিব্বতে ভয়াবহ বন্যা ও হিমবাহধসের আগে চীন কোনো আগাম সতর্কবার্তা দেয়নি বলে অভিযোগ করেছেন নেপালের সাবেক বন ও পরিবেশমন্ত্রী মাধব প্রসাদ চৌলাগাই।
শনিবার (২৯ আগস্ট) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, গত বুধবার সকাল ৮টা ৪০ মিনিটের দিকে নেপাল-তিব্বত সীমান্তে বরফ, পাথর ও কাদার ভয়াবহ স্রোত আঘাত হানার আগে চীনের কাছ থেকে কোনো সময়োপযোগী সতর্কবার্তা পায়নি নেপাল।
মাধব প্রসাদের দাবি, দুই দেশের মধ্যে সময়মতো তথ্য আদান-প্রদান না হওয়ায় প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে থাকতে পারে।
তিনি জানান, ২০২৫ সালে একটি ছোট আকারের হিমবাহ-সংক্রান্ত ঘটনার পর নেপাল ও চীনের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানের একটি ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছিল। তবে এবারের দুর্যোগের আগে সেই ব্যবস্থা কার্যকরভাবে ব্যবহার করা হয়নি।
ধসের উৎপত্তি কোথায়?
হিমবাহধসের উৎপত্তি নিয়ে চীন ও নেপালের বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে। বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, ধসটি নেপালের সীমানার ভেতর থেকে শুরু হয়েছে।
তবে চীনের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন মাধব প্রসাদ চৌলাগাই। তাঁর দাবি, ধসের উৎপত্তি তিব্বতের অংশে হয়েছে। এ বিষয়ে আরও স্পষ্টতা ও স্বচ্ছতা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, নেপালের বিদ্যমান আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা মূলত হিমবাহের হ্রদকেন্দ্রিক। কিন্তু এবার বরফ, পাথর ও কাদার বিশাল স্রোতে একটি পুরো নদীব্যবস্থা ধ্বংস হয়েছে, যা আগে এভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।
নেপাল, চীন ও ভারতের মধ্যে কার্যকর একটি যৌথ পূর্বাভাস ও আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। এমন ব্যবস্থা না থাকা ‘মানবতার পরিপন্থী’ বলেও মন্তব্য করেন মাধব প্রসাদ।
মৃত ৬২৬, নিখোঁজ ২ হাজার ৪০০-এর বেশি
এদিকে চতুর্থ দিনের মতো উদ্ধার অভিযান চালানোর পর শনিবার নেপালে বন্যা ও হিমবাহধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬২৬ জনে দাঁড়িয়েছে।
দুর্যোগকবলিত এলাকা থেকে প্রায় ২ হাজার ৫০০ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে এখনো ২ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
উদ্ধার অভিযানে নেপাল সেনাবাহিনীর ৫ হাজারের বেশি সদস্যসহ ১১ হাজারের বেশি নিরাপত্তাকর্মী অংশ নিচ্ছেন। দুর্গত এলাকায় নিখোঁজদের সন্ধান ও ক্ষতিগ্রস্তদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তবে যোগাযোগব্যবস্থা বিপর্যস্ত থাকায় হতাহত ও নিখোঁজের প্রকৃত সংখ্যা এখনো নিশ্চিত নয়। উদ্ধার অভিযান ও তথ্য সংগ্রহ শেষ হলে এ সংখ্যা আরও পরিবর্তিত হতে পারে।
সূত্র: এনডিটিভি

ডেস্ক রিপোর্ট
© ২০২৬ প্রাইম টেলিভিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।








