বিশ্বজুড়ে খাদ্যসঙ্কটের চিত্র দিন দিন আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। জাতিসংঘ সমর্থিত সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর তীব্র খাদ্যসঙ্কটে থাকা মানুষের বড় একটি অংশ মাত্র ১০টি দেশে বসবাস করেছে। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশের নামও।

‘গ্লোবাল রিপোর্ট অন ফুড ক্রাইসিসেস’ শীর্ষক এই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সংঘাত এখনো খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার প্রধান কারণ হিসেবে রয়ে গেছে। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট চরম আবহাওয়াও সংকটকে আরও গভীর করে তুলেছে। প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে, ২০২৬ সালে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে, যেখানে বিভিন্ন দেশে খাদ্য সংকট দীর্ঘস্থায়ী ও তীব্র আকার ধারণ করবে। খাদ্যসঙ্কটে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ১০টি দেশের তালিকায় রয়েছে আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, কঙ্গো, মিয়ানমার, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান, দক্ষিণ সুদান, সুদান, সিরিয়া এবং ইয়েমেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ও সিরিয়ায় কিছুটা উন্নতির লক্ষণ দেখা গেলেও আফগানিস্তান, কঙ্গো এবং মিয়ানমারের মতো দেশে পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। এতে বৈশ্বিক চিত্র আরও জটিল হয়ে উঠছে।

প্রথমবারের মতো একই বছরে গাজা ও সুদানের কিছু অঞ্চলে দুর্ভিক্ষের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে, যা বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তার জন্য একটি বড় সতর্ক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত বছর বিশ্বের ৪৭টি দেশ ও অঞ্চলে প্রায় ২৬ কোটি ৬০ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্যসঙ্কটে পড়েছে, যা ২০১৬ সালের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। এছাড়া আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়া, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, শরণার্থী প্রবাহ বৃদ্ধি এবং জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধির কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনার ফলে তেলের দাম বাড়ায় সার উৎপাদন ব্যয়ও বেড়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে খাদ্য উৎপাদনে।

জাতিসংঘের কর্মকর্তারা বলছেন, ক্ষুদ্র কৃষকদের সহায়তা বৃদ্ধি, জলবায়ু সহনশীল ফসলের উন্নয়ন এবং স্থানীয়ভাবে সার উৎপাদন বাড়ানো এখন সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজন। বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে আগামী দিনগুলোতে সংকট আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।