পদোন্নতির দাবিতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের চলমান আন্দোলন ‘কমপ্লিট শাটডাউনে’ রূপ নিয়েছে। আজ সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আন্দোলনরত শিক্ষকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের বিভিন্ন কক্ষে তালা লাগিয়ে দেন এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অফিস থেকে বের করে দেন। এর আগে শিক্ষকরা তাদের প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকেও পদত্যাগ করেন।

শিক্ষকদের দাবি, গত ৩০ এপ্রিল উপাচার্য ও বিভাগীয় কমিশনারের সাথে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে পদোন্নতি সংক্রান্ত জটিলতা সমাধানের ইতিবাচক সিদ্ধান্ত হলেও গত শনিবারের সিন্ডিকেট সভায় তার কোনো প্রতিফলন ঘটেনি। এর প্রতিবাদেই তারা বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন। শিক্ষকদের এই আন্দোলনে কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও একাত্মতা প্রকাশ করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫টি বিভাগের প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থী এই অচলাবস্থায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকায় সেশনজটের আশঙ্কা বাড়ছে। শিক্ষার্থীরা দ্রুত এই সমস্যা সমাধান করে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম জানিয়েছেন, সিন্ডিকেট সভা ইতিবাচক হয়েছে। তিনি শিক্ষকদের আন্দোলনের পথ পরিহার করে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে আসার এবং শিক্ষার্থীদের স্বার্থে দ্রুত ক্লাসে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত ২১ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলনের ফলে বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পুরোপুরি অচল হয়ে পড়েছে।