আমির খানের মৃত্যু-আতঙ্ক ও আকাশপথের ভয়

বলিউড অভিনেতা আমির খান। ছবি- সংগৃহীত
বলিউডের মিস্টার পারফেকশনিস্ট আমির খান। পর্দায় যাকে অকুতোভয় চরিত্রে দেখে দর্শক অভ্যস্ত, পর্দার আড়ালে সেই মানুষটিই বছরের পর বছর লড়াই করছেন এক বিশেষ মানসিক সমস্যার সাথে। আকাশপথে ভ্রমণের তীব্র ভয় বা এরোফোবিয়া গ্রাস করে রেখেছে এই শীর্ষ তারকাকে। বিমানে ওঠার কথা ভাবলেই তীব্র উদ্বেগ, দুশ্চিন্তা এমনকি মৃত্যু-ভয় তাকে অস্থির করে তোলে।
চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায়, বিমানে চড়ার এই অযৌক্তিক ভয়কে বলা হয় এরোফোবিয়া। বিশেষজ্ঞরা জানান, এই সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তির বিমানে ওঠার আগে বা ভ্রমণের সময় হৃৎস্পন্দন বেড়ে যাওয়া সহ শ্বাসকষ্ট, অতিরিক্ত ঘাম এবং প্যানিক অ্যাটাক হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে উচ্চতা বা বদ্ধ জায়গার প্রতি ভয় থেকেও এই সমস্যার সৃষ্টি হয়। বিশ্বের প্রায় ৩০-৪০ শতাংশ মানুষ জীবনের কোনো না কোনো পর্যায়ে এমন উদ্বেগের মুখোমুখি হন।
পেশাগত প্রয়োজনে নিয়মিত আকাশপথে পাড়ি দিতে হলেও এই ভয়কে জয় করতে আমির খান এক আবেগঘন পদ্ধতি বেছে নিয়েছেন। বিমানে ওঠার আগে তিনি নিয়মিত তার দীর্ঘদিনের বন্ধু ও পরিচালক মনসুর খানকে চিঠি লেখেন। এই চিঠিতে তিনি তার যাবতীয় অসমাপ্ত কাজের পরিকল্পনা এবং ব্যক্তিগত ইচ্ছার কথা বিস্তারিত লিখে রাখেন।
আমির এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, যদি কোনো দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়, তবে তার স্বপ্ন ও কাজগুলো যেন মাঝপথে থেমে না যায়— সেই ভরসায় তিনি বন্ধু মনসুরকে এই দায়িত্ব দিয়ে যান। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, মনের অস্থিরতা বা ভয় কাগজে লিখা, উদ্বেগ কমানোর একটি অত্যন্ত কার্যকর থেরাপি। এটি মানুষের মানসিক ভার লাঘব করে এবং পরিস্থিতির ওপর কিছুটা নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে আনে।
আমির খানের এই মানবিক দুর্বলতা এবং তা মোকাবিলার গল্পটি প্রমাণ করে যে, খ্যাতির চূড়ায় থাকা তারকাদের জীবনও সাধারণ মানুষের মতোই ভয় আর অনিশ্চয়তায় ঘেরা। তবে সঠিক কৌশল আর প্রিয়জনের ওপর ভরসা রেখে যেকোনো মানসিক বাধাই জয় করা সম্ভব।

ডেস্ক রিপোর্ট
© 2026 প্রাইম টেলিভিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।








