পশ্চিম এশিয়াজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোর বড় অংশ ইরান ও তার মিত্রদের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন। তাদের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্তত আটটি দেশে থাকা ১৬টি মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে একাধিক দফায় হামলা চালানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব হামলায় কিছু স্থাপনায় এমন গুরুতর ক্ষতি হয়েছে যে সেগুলো প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ রাডার ব্যবস্থা, সামরিক যোগাযোগ অবকাঠামো এবং যুদ্ধবিমানগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। এসব সামরিক সরঞ্জাম অত্যন্ত ব্যয়বহুল হওয়ায় দ্রুত পুনরুদ্ধার করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

WhatsApp Image 2026-05-02 at 1.08.55 PM

স্যাটেলাইট চিত্র এবং বিভিন্ন সূত্রের বরাতে সিএনএন জানায়, হামলাগুলোর লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক সামরিক সক্ষমতাকে দুর্বল করা। একাধিক স্থানে অবকাঠামোগত ক্ষতি এবং কার্যক্ষমতা হ্রাসের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

তবে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা নিয়ে মার্কিন বিভিন্ন সূত্রে ভিন্নমত রয়েছে। কিছু কর্মকর্তা বলছেন, ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোর বড় অংশ মেরামতযোগ্য এবং দ্রুত পুনরায় কার্যকর করা সম্ভব। আবার অন্যরা মনে করছেন, এ ধরনের সমন্বিত হামলা এর আগে কখনো দেখা যায়নি, যা মার্কিন সামরিক উপস্থিতির জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

এদিকে এই সংঘাতের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক চাপও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত যুদ্ধ পরিস্থিতিতে তাদের ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার। তবে অভ্যন্তরীণ কিছু অনুমান বলছে, প্রকৃত ব্যয় ৪০ থেকে ৫০ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে হতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক মিত্র দেশগুলোর মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। একটি সৌদি সূত্র জানিয়েছে, বর্তমান সংঘাত প্রমাণ করছে যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক জোট সবসময় সম্পূর্ণ নির্ভরযোগ্য বা অপ্রতিরোধ্য নয়—এমন ধারণা এখন প্রশ্নের মুখে পড়ছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পরপরই ইরান পাল্টা আক্রমণ শুরু করে। এরপর একাধিক দফায় চালানো হামলায় সৌদি আরব, কাতার, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও জর্ডানসহ বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়।

এছাড়া লেবানন ও ইয়েমেনের বিভিন্ন আঞ্চলিক গোষ্ঠীও এসব হামলায় ইরানের সঙ্গে সমন্বিতভাবে অংশ নিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে পুরো পশ্চিম এশিয়াজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে।